Sunday, January 19

অনশনের ঘোষণা ওসমানীনগরের পঙ্গু মালেকের



ওসমানীনগর প্রতিনিধি::অস্ত্রধারী সন্ত্রীদের গুলিতে পা হারানোর ২২ মাসেও অপরাধীরা ধরা না পড়া ও গুলির কাজে ব্যবহারকৃত আগ্নেীয়াস্ত্র অউদ্ধার না হওয়া এবং ঘটনাকারীদের বিচারের দাবীতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অনশনের ঘোষণা দিলেন গুলিতে পা হারানো ওসমানীনগরে পঙ্গু মালেকের।
প্রভাবশালী আ’লীগ পরিবারের সন্ত্রাসীদের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে পা হারা পঙ্গু অসহায় প্রবাসী আহমদ মালিক পা হারানোর ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাসে পুলিশ প্রশাসনের নিকট থেকে সুবিচার না পেয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবীতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে অনশনের ঘোষণা দিয়েছে অসহায় পঙ্গু মালেক।
ঘটনার ২২ মাস অতিবাহিত হবার পরও মামলার এজাহার ভুক্ত প্রধান আসামিরা(যাদের এখনও জামিন হয়নি) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী নেতার স্বজন হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। এমনকি ঘটনার ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে ওসমানীনগর থানা পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশীট) আদালতে জমা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মালেক। প্রশাসনের এহেন আচরণ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা ও বন্দুক গুলি উদ্ধারের দাবীতে গত ১১ই মে শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তার ফেসবুক আইডিতে ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে অনশনের স্ট্যাটাসের ঘোষণা দিয়েছে মালেক।

উপজেলার সাদিপুর ইউপির ইব্রাহিমপুর গ্রামের তাজপুর ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী মোঃ রহমত উল্লার বাহরাইন প্রবাসী আহমেদ মালিক জানায়, প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসে ২০১৬ সালের ১৫ই জুন নিজ বাড়ির সামনে এলাকার সন্ত্রাসী গোষ্টি ওসমানীনগর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দিনের চাচাতো ভাই মুছলে উদ্দিনের নেতৃত্বে কবির উদ্দিনের ছেলে সুমন, তার ভাগিনা বাদল, ভাতিজা মাহি গুলি করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া বন্দুক থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি দুটি বন্দুক দিয়ে তার ডান পায়ের হাটুর উপরে গুলি করে পালিয়ে যায়। অপর সন্ত্রাসী সুমনের হাতে থাকা আরেকটা বন্দুক দিয়ে গুলি মারতে চেষ্টা করলে ভাগ্যক্রমে গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়। আমার ছোট ভাইয়েরা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদের সাথে থাকা অপর সন্ত্রাসী দোলন, জুবেল, ইমন, তাহের, ছায়েদ, শ্যমল ও অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে লম্বা দা দিয়ে কুপ মেরে আমার দুই ভাইকে রক্তাক্ত আহত করে। যারা সবাই কবিরের আত্বীয় স্বজন। এদের সাথে আরো কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত (লম্বা দা,লাটি,ছুরি/চাকু ও কুচা) ছিলো।

এ ব্যাপারে মালিকের বাবা রহমত আলী বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় ঘটনার দিন রাতে (মামলা নং-১১) দায়ের করেন। জীবন বাঁচাতে সিলেট হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থা আশংকাজনক থাকায় সিলেটের ডাক্তাররা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মালিককে সাথে সাথে প্রেরণ করেন। ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে মালিকের ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন ডাক্তাররা।
আহমদ মালিক কান্না জড়িত কন্ঠে  বলেন, ঘটনার ২২ মাস হয়ে গেলেও দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী কাউকে গ্রেফতার করেনি। যারা আমার চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছেন, যারা আমার শরীরে রক্ত দিয়েছেন, যারা আমাকে দেখতে হাসপাতালে ও বাড়িতে এসেছিলেন, যারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে এসব সন্ত্রাসীরা হুমকি দামকি ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। আমার সাক্ষীদের উপর মিথ্যা সাজানো মামলা করে প্রভাবশালী এ সন্ত্রাসীরা হয়রানি করছে।
তাই কোন উপায় আন্তরর না দেখে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছি। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিচার বঞ্চিত অসহায় পঙ্গু প্রবাসী আহমদ মালিক।
অতিরিক্ত পুলিশ(ওসমানীনগর) সার্কেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চার্জশীট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যে চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *