Tuesday, January 21

অবহেলায় হতে পারে ব্রেইন স্ট্রোক



ব্রেইন স্ট্রোকের বিষয়টি মস্তিষ্কের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র অনেকের কাছেই অজানা একটি বিষয়। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে সমস্যা হওয়ার কারণেই মূলত স্ট্রোক হয়। আমরা মাথার অনেক ছোটখাটো ব্যথাকে অনেক সময় গুরুত্ব দেই না। কিন্তু, আমরা অনেকেই জানি না, এই অবহেলা আমাদের ফেলতে পারে মারাত্মক ঝুঁকিতে।
এমন কি হতে পারে মৃত্যুও। তাই মাথার যেকোনো ধরনের ব্যথাকে গুরুত্বের সাথে নিন। আর জেনে নেই কোন কোন ব্যথার কারণে হতে পারে ব্রেইন স্টোক।
স্ট্রোক প্রধানত দু’ধরনের। ১. আইস্কেমিক স্ট্রোক, যার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে এবং রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ২. হ্যামারেজ স্ট্রোক, যার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী শিরা ফুটো হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।

দু’ধরনের স্ট্রোকই মারাত্মক ক্ষতিকর। স্ট্রোকের কারণে মিনিটে ১.৯ মিলিয়ন মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়। তাই শারীরিক এমন কোনো লক্ষণ যা স্ট্রোকের আভাস দেয়, তা মোটেও অবহেলা করবেন না। কিন্তু, অনেকেই স্ট্রোকের মারাত্মক কিছু লক্ষণ একেবারেই পাত্তা না দিয়ে সমস্যায় পড়েন।

আজকে জেনে নিন কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন আপনি।

দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা: একটি জিনিসকে দুটি দেখতে পাওয়া, ঘোলাটে দৃষ্টি, এক চোখে রঙ দেখতে না পাওয়া ইত্যাদি চোখের সমস্যা, ক্লান্তি বা বয়স হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। সুতরাং সমস্যা মারাত্মক পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সতর্ক হোন।

হাত-পা অবশবোধ: আপনি যদি মনে করেন, উল্টোপাল্টা হয়ে শোয়ার কারণে বা অতিরিক্ত দুর্বলতার জন্য হাত-পা অবশ হয়ে আসছে, তাহলে হয়তো ভুল ভাবছেন। ঘুম থেকে উঠার পর যদি হাত-পা অনুভূতি শূন্য ও অবশ লাগতে থাকে, তাহলে মোটেও অবহেলা করবেন না। এটি মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার লক্ষণ, যা মোটেই অবহেলার নয়।

কথা বলতে অসুবিধা হওয়া: অনেকেই মনে করেন, তাদের ব্যথানাশক ঔষধ বা অন্যান্য ঔষধের কারণে ঘুম জড়িত গলার স্বর বা কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে এবং অবহেলা করে পাশ কাটিয়ে যান। কিন্তু, এটিও ব্রেইন স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

পায়ের ওপর ব্যাল্যান্স করে দাঁড়াতে বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া: কোনো ধরনের ঔষধ বা শারীরিক দুর্বলতায় মাথা ঘোরালে পায়ের ওপর ব্যালেন্স থাকছে না। নিউরোলজিস্টদের মতে, এটি স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সুতরাং অবহেলা করবেন না।

অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হওয়া: মাথা ব্যথাকে কেউই তেমন পাত্তা দেন না। কারণ, অনেক সময় সামান্য কারণেই মাথা ব্যথা হতে পারে। তাই মাথা ব্যথার সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকেই মাইগ্রেন মনে করে চুপচাপ থাকেন। কিন্তু, হুট করে অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হওয়া এবং যে ব্যথা সহ্য করার মতো নয়, সেটি স্ট্রোকের সময় হ্যামারেজের প্রধান লক্ষণ। তাই অবহেলা নয় মাথা ব্যথাকেও।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *