Saturday, January 18

আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার ১৪ বছর



সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেট নগরীর হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজার জিয়ারতে আসেন তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। ঐদিন তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তাঁর উপর এ হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত ও আনোয়ার চৌধুরীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ অনেকেই আহত হন।এ ঘটনায় মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল ইসলাম বিপুল, দেলোয়ার হোসেন রিপনকে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল সিলেট ও কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যুদন্ডের মধ্য দিয়ে রায় কার্যকর করে ঘটনার কলংকের মুক্তি ঘটে। তবে বিস্ফোরক মামলাটি সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম চলছে।সিলেট মহানগরীর হযরত শাহাজালাল (রহঃ) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানার তৎকালীন এস.আই. প্রদীপ কুমার দাশ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক ধারায় অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।এ মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে। তারপর সিআইডিতে স্থানান্তর করে কয়েক দফা তদন্ত শেষে মুফতি হান্নান, শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, দেলোয়ার হোসেন রিপন, মহিবুল­া ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। পরে সিআইডি তদন্ত শেষে আবু জান্দালকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশীট আদালতে দাখিল করে। সর্বশেষ বিস্ফোরক ধারায় গ্রেনেড সরবরাহকারীকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়।এ চার্জশীটের উপর শুনানী শেষে আদালত মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করে। এ আদালতে শুনানী শেষে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে পেপার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বর্তমানে চার্জ গঠনের জন্য মামলাটি সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী ৬ জুন শুনানীর কথা রয়েছে।এ মামলার হত্যা ধারায় বিচারকার্য শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল বুধবার রাতে সিলেটের কেন্দ্রীয় কারাগারে ও কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে ফাঁসি দেয়া হয়। ঐ রাতে ১০টায় তাদের ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। তবে আসামী মহিবুল­া ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়।সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদন্ড, মহিবুল­া ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা। তবে পূর্বোক্ত রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আসামীদের আপীল খারিজ করে দেন আপীল বিভাগ। গত বছরের ১৭ জানুয়ারী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। গত ২৩ ফেব্র“য়ারী আসামীরা রিভিউ আবেদন করেন। ১৯ মার্চ সে আবেদন খারিজ হয়। পরে গত ২১ মার্চ রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।২২ মার্চ হুজি নেতা মুফতি হান্নান, শারিফ শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌছায়। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আসামী রিপনকে এ রায় পড়ে শুনানো হয়। পরে ঐদিন সন্ধ্যায় এ তিন জঙ্গীর মৃত্যু পরোয়ানা বিচারিক আদালত থেকে কারাগারে পৌছায়। তারপর গত ২৩ মার্চ নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা আসামী দেলোয়ার হোসেন রিপন। পরে ২৭ মার্চ তিনি লিখিতভাবে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকোচ করে দেন। কারা বিধি অনুযায়ী তাদের দন্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়ে পরে তার ফাঁসি সিলেট কারাগারে ও মুফতি হান্নান ৫ বিপুলের ফাঁসি কাশিমপুর কারাগারে সম্পন্ন করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাদের লাশ পরিবারের কাছে পৌছে দিলে তারা লাশ দাফন সম্পন্ন করেন।সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মোঃ মফুর আলী জানান, অধিকতর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচার কার্যক্রম চলে। পরে মামলাটি সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। আগামী ১৮ জুন বিচারের ধার্য্য তারিখ রয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *