Monday, January 20

একমাসে ৬ ডাকাতি!



ডেস্ক নিউজ::সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় একমাসের মধ্যে ছয়টি দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। অস্ত্রধারী ডাকাতরা প্রবাসী ছয়টি পরিবারের অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। উপজেলার প্রবাসী পরিবারগুলো ডাকাতদের তার্গেটে পরিনত হওয়ায় উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ডাকাতি প্রতিরোধ করতে এলাকাবাসী রাতজেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন।

জানা যায়,গত ছয় এপ্রিল রাতে মাইজগাঁও ইউনিয়নের অর্ন্তগত শরীফগঞ্জ গ্রামের মোঃ ছদরুল ইসলাম লাভলুর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা অস্ত্রেরমুখে নগদ অর্থসহ আট ভরি স্বর্ণা লংকার লুট করে নিয়ে যায়। পাঁচ দিনের মাথায় এগারো এপ্রিল অস্ত্রধারী ডাকাতরা উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের আতাউর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় অস্ত্রধারী ডাকাতরা বাড়ি থেকে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা নয়ভরি স্বর্ণালংকার প্রবাসী কয়েস মিয়ার পাসপোর্ট ও টিকেট নিয়ে যায়।

গত ২০ এপ্রিল এক রাতে মাইজগাঁও ইউনিয়নের কর্মধা ও হাটুভাঙা গ্রামে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কর্মধা গ্রামের শাকিল আহমদ ও হাটুভাঙা গ্রামের রসনু মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা শাকিল আহমদের বাড়ি থেকে বারো ভরি স্বর্ণালংকার,নগদ আড়াই লাখ টাকা ও ৪ মোবাইলফোন সেট এবং রসনু মিয়ার বাড়ি থেকে নগদ অর্থসহ সাত ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। । গত ৭ মে সোমবার গভীর রাতে ঘিলাছড়া ইউনিয়নের আশিঘর গ্রামের আন্তই মিয়া ও নিজ ঘিলাছড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

২৩/২৪ জনের অস্ত্রধারী ডাকাতদল পশ্চিম আশিঘর বড়খলা টিলাবাড়ির আন্তই মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা আন্তই মিয়ার বাড়ি থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার,নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইসেট নিয়ে যায়। একই রাতে পার্শ্ববর্তী নিজ নিজ ঘিলাছড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়িতে হানাদেয় অস্ত্রধারী ডাকাতরা। অস্ত্রেরমুখে বাড়ির নারী পুরুষদের জিম্মি করে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার নগদ বারো হাজার টাকা ও ৪টি মোবাইলফোন সেট লুট করে। উপজেলা জুড়ে গণহারে ডাকাতির ঘটনার উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ডাকাতি প্রতিরোধে এলাকাবাসী রাতজেগে পাহারা শুরু করেছেন। উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমদ জিলুর নেতৃত্বে ইলাশপুর গ্রামে যুবকরা গত পক্ষকাল ধরে রাতজেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। মাইজগাঁও ইউনিয়নের শরীফগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা রাবেয়া খনম বলেন, কখন ডাকাতরা বাড়িতে হানা দেবে এই ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারিনা । রাজনপুরের বাসিন্দা গণকবি মফজ্জ্বিল আলী বলেন, ডাকাতির ভয়ে টেলিভিশন দেখে রাত কাটাই।

উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমদ জিলু বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর পরামর্শ নিয়ে এলাকার যুবকদের নিয়ে পাহারা শুরু করেছি। আমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।

এ ব্যপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেটের একটি গুরত্বপূর্ণ উপজেলা । সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার পাঁচ উপজেলার সাথে ফেঞ্চুগঞ্জের সড়ক,রেল ও নৌপথে যোগাযোগ রয়েছে। ডাকাতিরোধ করতে আইন শংখলা বাহিনী কাজ করছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *