Friday, January 24

একশত পাঁচ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতার নাম উঠেনি বিষুকা বাক্তির!



কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:: বয়সের ভারে ন্যুব্জ বিষুকা বাক্তি (১০৫)।

লাঠিতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেটে ভিক্ষা ভিত্তি করে চলে এক দু’বেলার আহার। শরীরে আগের মতো শক্তি নেই।

অনাহারে-অর্ধাহারে তার দিন কাটছে। বিষুকা বাক্তির বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মদন মোহনপুর চা বাগান এলাকায় মেয়ের বাড়িতে ।

ছোট একটি ছাপরা ঘরে মেয়ের সংসারে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠ বিষুকা বাক্তির। সামান্য যে সম্পদ ছিল, তা বিক্রি করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। বিষুকা বাক্তি সরকার থেকে কোনো ভাতা পাননি এতদিন যাবৎ।

বিষুকা বাক্তি আক্ষেপ করে বলেন, ইউপি মেম্বারের কাছে বয়স্ক ভাতার জন্য কত আকুতি-মিনতি করেছি বাবু। ‘ভবিষ্যতে এলে পাবে’ এই আশ্বাসটুকু ছাড়া আর কিছুই কপালে নাই জোটেছে আমার । তাঁর প্রশ্ন,‘কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা সরকারের ঘরে উঠে ?’তার মেয়ে আদরী বাক্তি(৬০) বলেন, ‘আমরা অসহায় ও গরিব মানুষ লাগে বাবু। হামরা পাচ ভাই বোন লাগে, আমি সবার ছোটকা আছি ।

হামার বড়কা দিদি বাসন্তী বাক্তি (৮০) বয়সে আজ ১৬, ১৭ বছর হলো ও মরেছে হামার দিদিও বয়স্ক নাহি পেয়েছে,এইটা দুঃখ নাহি লগছে মনে,কিন্তু হামার মা ভিক্ষা করে খায়ে না খায়ে করে দিন কাটছে বুড়িটার ১০০ বহুত উপরে হয়ে গেল,বুড়িটা কপালেও বয়স্ক ভাতা নাহি জুটছে,ওইটা দুঃখ লাকছে মনে বাবু, আমাদের দেখার যেন কেউ নাই আছে। চেয়ারম্যান বাবু গত বছর বলে গেলেও মেম্বারটা বয়স্ক ভাতার কার্ডে হামার মায়ের নাম নাহি তুলেছে।

’ইউপি সদস্য সাবির আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,বিষুকা বাক্তির নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় এবার তুলা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু বিষয়টি জেনে ক্ষিপ্ত হয়ে সাথে সাথেই ইউপি সদস্য সাবির আলীকে বিষুকা বাক্তির নাম বলার পরও কেন তোলা হয়নি তার কারণ জানতে চেয়ে বখাঝকা করে বয়স্ক ভাতার তালিকায় তার নাম সংযুক্ত করা না হলে তালিকা গ্রহন করা হবেনা বলে ইউপি সদস্যকে জানিয়ে বলেন বিষুকা বাক্তির মতো বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ মানুষ বয়স্ক ভাতা তালিকায় আসেনি সেটি খুব দুঃখজনক।

এদিকে বিষুকা বাক্তি ছাড়াও মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্ধছড়া চা বাগানের গোলবাহার বিবি (১০৪) ছয়ছিড়ি গ্রামের আয়ুব আলী (৮০) ভিক্ষাবৃত্তি দিয়ে সংসার চলছে যার,তাদের নামও বয়স্ক ভাতার তালিকায় নেই।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *