Monday, January 20

ওসমানীনগরের সফল মীরা এখন দুঃস্বপ্নের প্রতিচ্ছবি



বিকাশ সূত্রধর,ওসমানীনগর::
সুপ্ত মেধা আর সঠিক পরিশ্রমের কাছে হার মানে সকল প্রতিবন্ধকতা। যার বিরল প্রমাণ দিলেন এবার এস এসসি পরীক্ষায় ওসমানীনগরের মীরা দাস। গোয়ালা বাজার আদর্শ উচ্ছ বিদ্যালয়ের ৩১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলে তার মধ্যে একমাত্র মীরাই জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতকার্য হয় সে। কিন্তু সমাজের অন্যান্য আট দশ জন শিক্ষার্থীদের থেকে একটু আলাদা পিতৃহীন মীরা।
তিন ভাই বোনের মধ্যে সে সবার বড় হওয়ার কারণে অভাবী মাকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে নিজের লেখা পড়া করতে হতো তার। আবার সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছোট ভাই মিথুন এবং চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত ছোট বোন পিয়ালীকে রীতিমত পড়াশুনাসহ অন্যান্য বিষয়ে তদারকি করতে হয় তার । সবার বড় হওয়ার সুবাদে নিজেকে অধিক পরিশ্রম করতে হয় তার । কিন্তু এতে যেন বিন্দু পরিমাণ কষ্ট অনুভব করে না সে কারণ একটাই যদি তাকে লেখা পড়া ছাড়তে হয়। কষ্ট হতো তার কারন সে জানে তাকে এভাবেই পড়তে হবে । দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে দেশ মাতৃকার সেবার স্বপ্ন থাকলেও তা কেবল এখন দুস্বপ্ন মাত্র। যেখানে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার জন্য সেই ফিসটুকুই নেই তার । ডাক্তারী পড়াতো অনেক দুরের কথা। মীরার মা শংকরী দাস বলেন মীরা যে এই পযর্ন্ত আসবে তাতেও আমি শংঙ্কিত ছিলাম। কারণ বিশ থেকে পচিশঁ বছর আগে গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে নিজেদের থাকা ভিটেমাটি দুর্ভাগ্যবশত বিক্রি করতে হয় আমাদের। সেই থেকে অন্যের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতাম। কিন্তু বছর তিনেক আগে মীরার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেলে তার পর থেকে আমার সন্তানদের নিয়ে আমি অতৈ সাগরে ভেসে আছি। এখন আমি সুধা গুপ্ত মহোদয়ের বাসার একটি কক্ষে নাম মাত্র ভাড়া দিয়ে থাকি। মা শংকরী দাস বলেন আমার মেয়ে এই পযর্ন্ত আসতে পাড়তো না। যদি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশেষ করে দিপক দাস সহপাঠী রিমা গুপ্ত ও আমার প্রতিবেশী রুমি গুপ্ত মীরাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা না করতেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া যেখানে মীরা সফল হতে পারতো না।ঠিক তেমনি ভাবেই আমার পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব হয় না । আমার ক্ষুদ্র আয় দিয়ে মীরার স্বপ্ন বাস্তবায়বান করাবো তা কখনই সম্ভব নয়। এখন মীরাকে কি করবো তা নিয়ে সবর্দাই চিন্তিত আছি। এবং তিনি শিক্ষাবান্ধব সরকারর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যদি সরকার থেকে আমার মেয়েকে সাহায্য করা হয় । তাহলে হয়তো সে তার স্বপ্ন পূরণ করে দেশের কাজে নিজেকে উৎর্সগ করতে পারতো।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *