Wednesday, January 29

ওসমানীনগরে একটি বিদ্যালয়ের ২মাস ধরে অনুপস্থিত দপ্তরি :: ব্যবস্থা নিচ্ছে না উপজেলা শিক্ষা বিভাগ



ওসমানীনগর নিউজ ডটকম ::
প্রায় ২মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন ওসমানীনগরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি (কাম নৈশপ্রহরী)। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ে কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ এ ব্যাপারে অবগত থাকলেও রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির তিলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি (কাম নৈশপ্রহরী) ফরহাদ আহমদ অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তার ইচ্ছে মাফিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করছেন। চাকুরীর বিধান অনুযায়ী তার বিদ্যালয়ে রাত্রী যাপনের কথা থাকলেও তিনি নিজ বাড়িতেই রাত্রী যাপন করতেন। এ বিষয়ে গত আগস্টে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লিখিত ভাবে ওসমানীনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ফরহাদ আহমদের কাছে তার ইচ্ছে মাফিক চলাফেরা ও বিদ্যালয়ে অপেশাদার মূলক আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার কাছে রক্ষিত বিদ্যালয়ের চাবি ছুড়ে ফেলে দিয়ে তিনি আর চাকুরী করবেন না বলে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে আসেননি।
স্থানীয় অনেকেই জানান, চারদিকে এখন চোরের উপদ্রপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় যেকোন সময় বিদ্যালয়ের আসবাবসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হয়ে যেতে পারে। কি কারণে ফরহাদকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তা রাণী চক্রবর্তীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরহাদের বিষয়টি সবারই জানা। সভাপতি সাহেব এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবগতও করেছেন। ফরহাদের বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিতে হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে রাতে দিতে হবে।
তবে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত অপর এক শিক্ষিকা (নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ফরহাদ দুইমাস ধরে স্কুলে আসছেন না। এটা বিদ্যালয় এবং এলাকার সবার জানা। তবে কি কারণে প্রধান শিক্ষিকা মুখ খুলতে নারাজ তা বলতে পারছি না।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দপ্তরি ফরহাদ আহমদের সাথে কথা বলতে তার মোবাইলে যােগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ফরহাদ যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি কখনো বিদ্যালয়ে রাত্রী যাপনও করেননি। শিক্ষকরা পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করলে সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রেজ্যুলেশনের কপিসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়।
৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি মিমাংশার লক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে ওই বৈঠকে ফরহাদ উপস্থিত হয়ে অশালিন ভাবে উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয়ে চাবি ছুড়ে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ফরহাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রধান শিক্ষক বার বার উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবগত করছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস নীরব ভূমিকা পালন করছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন মিয়া (চলতি দায়িত্ব) বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরির অনুপস্থিতির বিষয়টি আমার নিকট এসেছে। এ বিষয়ে আমি আরো খোঁজ নিচ্ছি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *