Wednesday, January 22

ওসমানীনগরে কুশিয়ারা নদীতে বালু উত্তোলন, ভাঙন আতঙ্কে নদী পারের বাসিন্দারা,ঝুঁকিতে শেরপুর সেতু



শিপন আহমদ ::
কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা হুমকির মুখে রয়েছেন। নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে দিন মুজর ও খেটে খাওয়া লোকজনকে শাস্তি প্রদান করলেও মূল হোতারা রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের তাজপুর, সুরিকোণা, খছরুপুর, বালাগঞ্জ উপজেলার সদরের বালাগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রাম, পারকুল গ্রামস্থ বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লাট, শেরপুর ব্রীজের আশপাশ এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। দির্ঘ এক সপ্তাহ ধরে কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগরের আলীপুর গ্রাম এলাকা থেকে ড্রেজার মিশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মিত শেরপুর সেতুটি মারত্মক ভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুর এ্যাপ্রোচ অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
কুশিয়ারা থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত ৩ জুন এলাবাসীর পক্ষ থেকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে- সিলেট, মোলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই তিন জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রমত্তা নদী কুশিয়ারা। কুশিয়ারা নদীতে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তলন করছে। যার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর দুই পারে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেননা। অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় গত বছরের বন্যায় কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙ্গ উপজেলার শাতাধিক গ্রাম তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদী পারের বাঁধ ভেঙে যায়। এবিষয়ে ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রীর নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে-ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর গ্রামের আব্দর রব, আব্দুল হক, ইব্রাহিমপুর গ্রামের কবির উদ্দিন আহমদ, পালপাড়া গ্রামের সুশাঙ্ক পাল, নবীগঞ্জ উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের মুহিবুর রহমান হারুন, পারকুল গ্রামের দুলাল মিয়া, ব্রাম্মনগাঁও গ্রামের সুমন মিয়া, মৌলভীবাজারের নতুনবস্তী গ্রামের রাসেল মিয়া অনেকটাই প্রকাশ্যে প্রসাশনকে ম্যানেজ করে কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পন্থায় বালু উত্তলন করে যাচ্ছেন।
ওসমানীনগরের আলীপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়া, মঙ্গলপুর গ্রামের আবু তালহা ও বালাগঞ্জের ঐয়া গ্রামের আবুল মিয়াসহ নদী পারের একাধিক বাসিন্দা জানান- প্রসাশনের বিভিন্ন দফতরে দেয়া অভিযোগ দেয়া হলেও পরিবেশ ধ্বংশকারী প্রভাবশালীরা ড্রেজার মিশিন দিয়ে কুশিয়ারায় অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতে ব্যস্থ রয়েছেন। কিন্তু, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছেনা। যার কারণে প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলনে হরিলুট। এখানে প্রশাসন যেন নিরব দর্শক। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন মাঝে-মধ্যে লোখ দেখানো অভিযান পরিচালনা করে দিন মুজুর লোকজনকে ধরে নিয়ে যান এবং জেল জরিমানা করেন। কিন্তু যাদের মদদে বালু উত্তোলন হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রসাশন রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছেন।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান বলেন- এ ধরণের অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে। তবে আমি যতটুকু জেনেছি বালু উত্তোলনকারীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। এছাড়া এ সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শেরপুর সেতুতে যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে প্রসাশনের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনকারীদের বলে দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *