Tuesday, January 28

ওসমানীনগরে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং



নিউজ ডেস্ক:ওসমানীনগরে পবিত্র রজমান মাসে বিদ্যুতের অনাকাংখিত লোডশেডিং এর কারণে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন এ অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষ। রমজান মাসের শুরুতে ওসমানীনগরে লোডশেডিংয়ের পরিমান সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও সম্প্রতি রহস্যজনক কারণে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে লোডশেডিংয়ের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। এত করে রোজাদার থেকে শুরু করে বৃদ্ধ শিশু ও অসুস্থ মানুষ বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র তাপদাহে চরম ভোগান্তিে রয়েছেন। প্রতিদিন ইফতার, তারাবিহ ও সেহরীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিত্য নৈমেত্যি ঘটনা হয়ে গেছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি ও চাহিদার চেয়ে বিতরণ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ কম পাওয়ার অজুহাত দিখিয়ে পার পাবার চেষ্ঠা করছেন প্রতিনিয়িত। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে সেখানে লোডশেডিং হবার কথা না থাকলেও ওসমানীনগরে চিত্র পুরো উল্টো।

গত রবিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ গোটা উপজেলায় বিদ্যুত চলে যায়। বিদ্যুতের দেখা মিলে সোমবার সকাল ৮টা ২৪ মিনিটের দিকে। এদিকে, সন্ধার পর নিয়মমত লোডশেডিং করার পরও এ দিন তারাবির নামাজ চলাবস্থায় বিদ্যূৎ চলে যায়। এ সময় প্রায় আধা ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়। সেহরীর সময় রাত ৩ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত লাইনে ত্রুটি থাকার অজুহাতে এলাকার বানিজ্যিক ফিডারের (৪নং সহ বিভিন্ন ফিটারে ) গ্রাহকরা বিদ্যূৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। কিন্তু নিজেদের দায়ভার এড়াতে বিষয়টিকে লোডশেডিং অথবা ৩৩ কেভির সমস্যা বলে চালিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারন মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ ওসমানীনগরেরর খাশিকাপন জোনাল অফিসের আওতায় ওসমানীনগর, জগন্নাথপুর(আংশিক) ও বালাগঞ্জের(আংশিক) এলাকায় ৯টি ফিডার লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত লোডের অজুহাতে বেশীর ভাগ সময়ই বিভিন্ন ফিডার বন্ধ রাখা হয়। কখনো কখনো এতে অতিরিক্ত লোডের জন্য গ্রীড থেকে বার বার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অজুহান দেখান স্থানীয় জোনাল অফিসের ডিজিএম। কিন্তু বাস্তবে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ করা হচ্ছে নাকি ইচ্ছে করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে সাধারণ জনতার মনকে সরকারের বিরুদ্ধে বিষিয়ে দিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের থেবর সরকার বিরোধী কোনো চক্র রাজনৈতিক ফায়দা নিতে এই অপকর্ম করছে সেটাও খতিয়ে খো সময়ের দাবী।

তাজপুর ইউপির রবিদাস গ্রামের গ্রাহক এমদাদ হোসেন, দয়ামীর ইউপির চিন্তামইন গ্রামের উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ৪ নং ও ৫নং ফিডার লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধা করে রাখা হয়। বিদ্যুৎ অফিসের টেলিফোন অপারেটরও বিভিন্ন অভিযোগ বা বিদ্যুতের ব্যাপারে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি প্রদান করে। বেশীর ভাগ সময় অভিযোগ কেন্দ্রের নাম্বার বন্ধ বা ব্যস্ত পাওয়া যায় । জোনাল অফিসে অভিযোগের জন্য মাত্র একটি মোবাইল ফোনে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে ফোন দিতে হয়। এ থেকে উত্তরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অচিরেই পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
সিলেট জেলা আ’লীগের সদস্য ও ওসমানীনগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজপুর ইউপির মোল্লাপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক আবদাল মিয়া বলেন, অতিরিক্ত গরম বা ঝড় হলে হয়ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। কিন্ত ঘনঘন লোডশেডিং ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকা এটা কিছুটা রহস্যজনক। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভেতর সরকার বিরোধী কোনো চক্র এটা করছে কিনা খুজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডিজিএম জহিরুল ইসলাম বলেন, তীব্র তাপদাহে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। ওসমানীনগরে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট কিন্তু বিতরণ বিভাগ থেকে দেয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সে কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করে একটি ফিডার বন্ধ রেখে অন্য ফিডার চালাতে হচ্ছে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের বিষয় নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর সাথে কথা বলে যাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *