Thursday, January 23

ওসমানীনগরে পবিত্র শবেবরাত পালিত



ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: রাতভর ইবাদত বন্দেগিতে ও যথাযথ ধর্মীয়  ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ওসমানীনগরে পবিত্র শবেবরাত পালিত হয়েছে। পবিত্র এ রজনীতে মুসল্লিরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকারসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগি করেছেন। এ রাতে এলাকার মসজিদ ও মাজার গুলোতে ওয়াজ মাহফিল ও জিকির আসকার এর আয়োজন করা হয়। দিনটিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজাও পালন করেছেন। ভাগ্য নির্ধারণের এই দিনে ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তায়ালার কাছে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও আগামীর কল্যাণ কামনায় অশ্র“সিক্ত হয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলিস্নরা।মহিমান্বিত এই রজনী উপলক্ষে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঢল নামে। বিভিন্ন মসজিদ ও মাজার শরিফে দিবসটির তাৎপর্য বর্ণনা করে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিগন সারারাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করেন। মঙ্গলবার রাতে মুসল্লিদরা রিক্সা, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেলে চড়ে দলবেঁধে লোকজন এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে, এক মাজার থেকে অন্য মাজারে যাতায়াত করেন।
শবেবরাত সৌভাগ্যের রাত। হিজরি সনের শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে পালিত হয় পবিত্র শবেবরাত। ‘শবেবরাত’ একটি ফারসি যৌগিক শব্দ; ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘মুক্তি পাওয়ার রাত’।
একে আবার আরবিতে ‘লায়লাতুল বরাত’ও বলা হয়, যার অর্থ ‘মুক্তির রাত’।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ছিল মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী; পাপ মোচনের পরম সৌভাগ্যের রাত। এই রাতে পরবর্তী বছরের জন্য ভাগ্য নির্ধারিত হয়। নির্ধারিত হয় হায়াত-মউত, রিজিক-দৌলত ও আমল। বিশেষ পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে দেশের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরা তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াতে মশগুল ছিলেন। মহিমান্বিত এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে, বরকতময় এ রাতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয় মানুষের আমলনামা। নির্ধারিত হয় তাবৎ মানুষের আগামী এক বছরের রিজিক। এ রাতেই তালিকাভুক্ত করা হয় পরবর্তী বছরের মৃত্যুবরণকারী ও জন্মগ্রহণকারীর নাম।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়,মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মহিমান্বিত ভাগ্যরজনীতে ওসমানীনগর এলাকার শাতাধিক মসজিদ ও ৩৬০ আউলিয়ার সঙ্গি হযরত শাহ্ মোল্লামোবারক(রঃ), হযরত শাহ্ সিকন্দর(রঃ), হযরত শাহ্ কলমদর (রঃ), হযরত শাহ্ সঞ্জব বোয়ালী (রঃ), হযরত শাহ্ জালাল উদ্দিন (রঃ), হযরত শাহ্ সুলেয়মান করনী (রঃ), সৈয়দ শাহ্ দামড়ি(রঃ) ও ফকির কনাইশাহ্, মানশাহ্, আইড়াশাহ্, বালতিশাহ্ এর মাজারে   মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারারাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করেন। অনেকে সিলেট হযরত শাহ্ জালাল(রঃ) ও হযরত শাহ্ পরান(রঃ)’র মাজারে ইবাদত করেন রাতভর। পুরুষরা মসজিদ ও মাজারে আর নারীরা ঘরে সারা রাত ইবাদত করে রাত পার করেন। কবর জেয়ারত, ওয়াজ-মিলাদ মাহফিলে যোগদান করেন মুসল্লিরা। বাজার এলাকা ছাড়াও মসজিদ ও মাজারের  পাশে দোকানিরা মোমবাতি- আগরবাতি-গোলাবজল,আতরসহ নানা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায়।
শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *