Wednesday, January 22

ওসমানীনগরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী



ওসমানীনগর প্রতিনিধি:; পবিত্র রামাদ্বান মাসে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে ওসমানীনগর উপজেলাবাসী। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং’র প্রতিবাদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে উপজেলাবাসী। শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত প্রায় আধা ঘন্টা উপজেলার গোয়ালাবাজারে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে উপজেলার শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা।

খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদ উল্যা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লোডশেডিং বন্ধের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আর যাতে ওসমানীনগরে লোডশেডিনং না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিক্ষুব্ধ জনতাকে প্রতিশ্রুতি দিলে জনতা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে।
আধা ঘন্টা স্থায়ী অবরোধে চলাকালে মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।এতে প্রচ- গরমে যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন।
অবরোধ কালে উপস্থিত ছিলেন, ইকবাল আহমদ, দিলদার আলী, মুকিদ মিয়া, রুহেল আহমদ, ইউসুফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল বাছিত মেম্বার, সিজিল মিয়া, রাজন দেব, রাসেল আহমদ, উজ্জল দেব, শাহ আলম, লিটন ডিকষ্টা,জাকির আহমদ, আব্দুল খালিক, মিন্টু, রেজবুল ইসলাম সহ সহ¯্রাধিক সাদারণ জনতা।
অবরোধকারী উমরপুর এলাকার ইকবাল আহমদ বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছে। ফের যদি লোডশেডিং অব্যাহত থাকে তাহলে উপজেলা বাসী আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা মহাসড়ক অবরোধের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখার প্রতিশ্রুতিতে অবরোধকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে।

এদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং’র প্রতিবাদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে উপজেলাবাসী। আজ শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে দ্বিতীয় দফা প্রায় ২০ মিটিন উপজেলার তাজপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে উপজেলার শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা।

উল্লেখ্য, গত প্রায় এক মাস ধরে সিলেটের ওসমানীনগরে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার জীবন ব্যবস্থা। এ ব্যপারে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুসন্ধান কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও কোন তথ্য পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এমন কি লোড শেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ বিভাগের মোবাইল ও টিএনটি ফোন বন্ধ রাখা হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মোবাইল ও টিএনটি ফোন বন্ধ রাখার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চুপ রয়েছে। উন্নত সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কাশিকাপন বিদ্যুত অফিস। কিন্তু বার বার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহককে বিপর্যস্ত করে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। অতিরিক্ত লোডের অজুহাতে বেশীর ভাগ সময়ই বিভিন্ন ফিডার বন্ধ রাখা হয়। কখনো কখনো অতি উৎসাহী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকতা না মেনে এক সাথে সব গুলো ফিডার চালু করে দেন। এতে অতিরিক্ত লোডের জন্য গ্রীড থেকে বার বার বন্ধ করে দেওয়া হয় সংযোগ। ফলে শিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন এলাকাবাসী।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *