Saturday, January 18

ওসমানীনগরে মা-ছেলেকে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন-গ্রেফতার ৩জন



ওসমানীনগরে মা ও ছেলের গলিত লাশ উদ্ধারের ২ সপ্তাহের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ৩ আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে জখরুল মিয়া, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের ছেলে শাহ্ মো. নজরুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে গ্রেফতারকৃতরা মহিলাকে ধর্ষণের পর তার ছেলেসহ হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএম মাইন উদ্দিন। ঘটনার সাথে জড়িত আরেক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্ল্যেখ্য: ২৪ মার্চ বিকেলে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একারাই গ্রামের ছোট হাওর এলাকা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার কাচারি মালাকারপাড়া গ্রামের মৃত দেবেন্দ্র মালাকারের স্ত্রী দিপু মালাকার (৩৬) ও তার ছেলে বিকাশ মালাকার (৭)’র গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐদিন রাতেই লাশের স্বজনরা এসে পরিচয় সনাক্ত করে।

এঘটনায় ২৬ মার্চ নিহত মহিলার ছেলে যিশু মালাকার বাদি হয়ে অজ্ঞাত কয়েক জনকে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে অল্প সময়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিপু মালাকার গোয়ালাবাজার এলাকায় ছোট ছেলেকে নিয়ে একটি কলোনীতে বসবাস করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ১৭ মার্চ রাতে আসামীরা একারাই এলাকায় একটি মোরগ ও মাছের খামারে নিয়ে ঐ মহিলাকে ধর্ষণের পর মহিলাসহ তার ছেলেকে হত্যা করে পার্শবর্তী হাওর এলাকায় লাশ গুম করে রাখে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) এসএম মাইন উদ্দিন ৩ আসামী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২৬ মার্চ মামলা দায়েরের পর অনেকের সহযোগীতায় রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। গ্রেফতাকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *