Wednesday, January 29

ওসমানীনগরে হামলার ঘটনার মামলা দায়ের



ওসমানীনগর প্রতিনিধি:ওসমানীনগরে হামলার ঘটনার ৯দিন পর অবশেষে মামলা রেকর্ড করেছে থানা পুলিশ। উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে মজলু মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এদিকে হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে সিলেট ওসমানী হাসাপাতালে চিকিৎসাধিন থাকা রহমত উল্যা, শফিক মিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে সফিক মিয়াকে জ্ঞানহীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে আহতদের স্বজনরা জানান। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আলীপুর গ্রামের সোনা উল্যা, মামুন, মাছুম, তোফায়েল, জাহাঙ্গীর, দুদু মিয়া, মছব্বির, আজমান উল্যা, মুকিদ মিয়া, আবদাল মিয়া ও মহব্বত উল্যা।
জানা যায়- আলীপুর মৌজার জেএল নং-১৭১ এর অন্তর্ভুক্ত ৬৪০ নং দাগের ভুমি নিয়ে আলীপুর গ্রামের রহমত উল্যা এবং সোনা উল্যার মধ্যে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সোনা উল্যাসহ তার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে। ৬ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রহমত উল্যা তার ভাগিনা মজলু মিয়াকে সাথে নিয়ে ওই ভুমিতে চাষাবাদ করতে গেলে সোনা উল্যার নেতৃত্বে তার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রহমত উল্যা ও মজলু মিয়ার ওপর হামলা করেন। এসময় রহমত উল্যার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে রহমত উল্যাসহ তার পক্ষের সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হামলার ঘটনায় রহমত উল্যার ভাগিনা মজলু মিয়া বাদি হয়ে হয়ে গত ১০ মে ওসমানীনগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। থানা পুলিশের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে হামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। হামলার শিকার রহমত উল্যার ভাতিজা বাবুল মিয়া বলেন, আমার পূর্বসূরীদের নামে রেকর্ডিয় ভুমির দখল নিতে সোনা উল্যা ও তার পক্ষের লোকজন মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় একের পর এক হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রাণী করে আসছেন। সম্প্রতি সোনা উল্যা ও তাদের পক্ষের লোকজনের অতর্কিত হামলায় আমিসহ সাতজন আহত হই। তাদের হামলায় আমার চাচা রহমত উল্যার একটি পা, ফুফা শফিক মিয়ার দুটি পা ও ফুফাত ভাই মজলু মিয়ার ডান হাতের দুটি আঙুল ভেঙে গেছে। ফুফা শফিক মিয়া এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। মামলা তুলে নিতে হামলাকারীরা আমাদেরকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে আমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে করেনি। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার থানার মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং-১১।

অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *