Saturday, January 18

ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য ঊর্ধ্বমুখী



শিপন আহমদ ::পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর থেকে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের ছোট-বড় বাজারগুলোতে মাংস, সবজীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। বিশেষ করে পেঁয়াজ বাজারের লাগাম টেনে ধরাই যাচ্ছেনা। মাংস ও পেঁয়াজের বাজারেও এখন আগুন। রমজানের শুরুতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ায় দুই উপজেলার জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। লাগামহীম দামের কারণে এর ধারে কাছে যেতেও ভয় পাচ্ছেন নিম্মবিত্তরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য লাগামহীন হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। এছাড়া সবজির দাম বাড়ায় কেবল যে নিন্ম আয়ের লোকজন বিপাকে পড়ছেননা। চিন্তার রেখা স্পষ্ট দেখা দিয়েছে অনেক মধ্যবিত্ত এবং নি¤œ মধ্যবিত্তদের মাঝেও। বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বালাগঞ্জ সদর বাজার ও ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গোয়ালাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেলেও উপজেলার অনান্য বাজার গুলোতে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে না। তবে বাজারের এই চিত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে। ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, সঠিকভাবে বাজার মনিটরিংয়ের অভাব এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে বিক্রেতারা ইচ্ছা মতো দাম নিচ্ছেন। আবার বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ কম। ফলে বেশি দামে তাদের পন্য কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরজমিনে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে সবজির দাম। লাগামহীন সবজির দাম থাকার কারনে অনেকটাই ক্রেতা শূণ্য সবজির বাজার। ক্রেতা সাধারণকে একাধিক দোকান ঘুরে দর কষাকষি করতেও দেখা যাচ্ছে। তবে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করতে দেখা গেলেও সরকারের দেয়া পণ্যের মূল্য তালিকা প্রতিটি বাজারে সাঁটিয়ে দেয়া হতে দেখা যায়নি। সরকারের দেয়া পণ্যের মূল্য তালিকা প্রতিটি বাজারে সাঁটিয়ে না দেয়ায় প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার সাথে সাথে ব্যবসায়ীরা আবারও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম আদায়ে প্রতিযোগিতা শুরু করে।
রমজান মাস শুরু পর থেকে সবজি ও মাংসের দাম বেশ চড়া। বির্ভিন্ন বাজার ঘুরে সবজি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির মধ্যে পটল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করোলা, ঝিঙে, শসা এবং টমেটো মান ও আকার ভেদে ৫০ থেকে ২শ টাকা, কচুর মুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৪০ টাকা, সীম ১৪০ থেকে ২শ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৬০টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা এছাড়া লাল শাঁক, ডুগি শাঁক, লাই শাঁক বিক্রি হচ্ছে আটি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। অপরদিকে মুদিপণ্য গুলোও আগের চেয়ে অনেকটা ছড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতিকেজি, ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০টাকা, আদা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, চাউল প্রতিকেজি (মোটা) ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, (চিকন) ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সয়াবিন প্রতি লিটার (খোলা) ১শ টাকা, বোতল ১১০-১১৫ টাকা, মশুরডাল প্রতিকেজি ৯০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অধিক চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে সবজি কিনতে আসা আব্দুল করিমসহ একাধিক ক্রেতা বলেন, বাজারে ৫০ টাকার নীচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছেনা। গরু মাংস ৫০০-৬৫০, খাসি ৭০০-৮৫০,মুরগী বয়লার ১৪০-১৬০ বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মাংস ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওজনে কম দেয়াসহ নানা রখম প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আর চালের দামতো ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত আদায় করছেন। এমন অবস্থায় আমরা নিন্মবিত্তরা কোথায় যাবো। এই বাজারে আসা রুহুল আমিন নামের এক দিনমুজুর জানান, আমি সারাদিন কাজ করে পাই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রতিদিন চাল কিনেই আর সবজি কেনা সম্ভব হয়না। সোমবার বালাগঞ্জ বাজারে আসা ক্রেতা হিরন মিয়া বলেন, বাজারে যে পরিমানে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে করে আমাদের পক্ষে সদাইপাতি কেনা মুসকিল হয়ে যাবে। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, বালাগঞ্জ উপজেলায় বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। উপজেলার সকল বাজারগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, রমজান মাস কে কেন্দ্র করে ব্যবসয়ায়ীরা যাহাতে দ্রব্যমূল্যের অতিরিক্ত দাম আদায় করাতে না পারেন সে ব্যাপারে আমাদের কঠোর নজদারী রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিদিন বাজার এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ফলে সিলেট শহরের তুলনায় এ উপজেলায় বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *