Saturday, January 18

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৮৪ শ্রমিক



দেশে বিভিন্ন খাতে কর্মক্ষেত্রে গত বছর ৭৮৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর আগের বছর (২০১৬ সালে) এই সংখ্যা ছিল ৬৯৯ জন।

সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) প্রকাশিত ‘শ্রম পরিস্থিতি ২০১৭’ শিরোনামের জরিপ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কর্মক্ষেত্রে গত ৫ বছরে ৪ হাজার ১৫৫ শ্রমিক নিহত ও ৭ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন উল্লেখ করে জরিপে জানানো হয়, ২০১৬ সালে ৬৯৯ জন নিহত ও ৭০৩ জন আহত, ২০১৫ সালে ৩৬৩ জন নিহত ও ৩৮২ জন আহত, ২০১৪ সালে ৬০৩ জন নিহত ও ৬৮৫ জন আহত এবং ২০১৩ সালে এক হাজার ৭০৬ জন নিহত ও ৪ হাজার ৮২৫ জন আহত হন।

জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৮৪ জন শ্রমিক, এর মধ্যে ২১ জন নারী। খাত অনুযায়ী পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হন। পরিবহন খাতে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা ৩০৭ জন।

নির্মাণ খাতে ১৩১ জন, দিনমজুর ৫৫ জন, কৃষিশ্রমিক ৩৪ জন, ইলেকট্রিশিয়ান ২৪ জন, শ্রমিক ২১ জন, পাথর উত্তোলনে ২১ জন, চালকলে ২০ জন, মৎস্যশ্রমিক ১৭ জন এবং গার্মেন্টস শিল্পে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন।

এ ছাড়া গত বছর কর্মক্ষেত্রে আহত হন ৫১৭ জন শ্রমিক, যার মধ্যে ১০৯ জন নারী। আহত হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গার্মেন্টস শিল্পে। এই শিল্পে ১৫৮ জন শ্রমিক আহত হন। নির্মাণ খাতে ৯২ জন, দিনমজুর ৫৪ জন, পরিবহন খাতে ৪৮ জন শ্রমিক আহত হন।

এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১৬টি, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ১২৬ টি, উপর থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ৫৯টি, অগ্নিকাণ্ড ২৯টি, মাটি ধসের ২৫টি ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে সংঘটিত সহিংসতায় ২৫৮ জন শ্রমিক নিহত ও ১২০ জন শ্রমিক আহত হয়। একই সঙ্গে ২৭টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে এবং ২৭ জন শ্রমিক নিখোঁজ হন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১৮১টি শিল্পবিরোধের ঘটনা ঘটে। যেখানে তৈরি পোশাকশিল্পে ৯১টি, পরিবহন খাতে ৩৬টি, বিড়িশিল্পে ৭টি, কৃষি খাতে ৬টি এবং চিনিশিল্প এবং নৌ পরিবহন খাতের প্রতিটিতে ৫টি করে বিরোধের ঘটনা ঘটে।

শিল্পবিরোধের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, ক্ষতিপূরণ, বিনা নোটিশে কারখানার কর্মী ছাঁটাই ইত্যাদি। এসব কারণে ৬৮টি বিক্ষোভ ও ২১টি মানববন্ধন হয়। ১৮টি ধর্মঘট করা হয়েছে, সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে ১৫টি এবং সমাবেশ হয় ১২টি।

গত বছর বকেয়া বেতনের দাবিতে ৫৬টি শ্রমিক আন্দোলন হয়। দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য ৩৫টি, কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় ১৪টি, শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৩, শ্রমিক প্রহারের ঘটনায় ১২, ওভারটাইম ও কারখানা স্থানান্তর নিয়ে ৬টি করে এবং ক্ষতিপূরণ ও কম মজুরি নিয়ে ৫টি করে আন্দোলন হয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *