Tuesday, January 28

কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে ভিটেহীন শত পরিবার



গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি::কুশিয়ারা নদীর লাগামহীন ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে বিস্তৃন্ন জনপদ। হারিয়ে যাচ্ছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ছোট হয়ে আসছে গোলাপগঞ্জের ভৌগোলিক সীমারেখা। অদৃশ্য হচ্ছে স্মৃতিময় পথঘাট। বিরামহীন নদী ভাঙ্গনে বসতভিটাহীন হচ্ছে শতশত পরিবার। বর্ষা মৌসূমে নদীর স্রোতের ঘূর্ণায়ণ আর শূকনো মৌসূমে নদীর পানি কমে যাওয়ার ফলে নদী ভাঙ্গন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। নদী ভাঙ্গনে যেমন জনপদ ধ্বংস হচ্ছে তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ আগে বাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা উত্তরপাড়া গ্রামের পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা হঠাৎ গভীর রাতে নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা হচ্ছে সমুজ উদ্দিন, দুধু মিয়া, সিকন্দর আলী, পংকী মিয়া ও নুর উদ্দিনের পরিবার। সমুজ উদ্দিন জানান আমার ৮সদস্যের পরিবার। দীর্ঘ ৪বছর থেকে নদী কিনারে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছি। বারবার বসতভিটা বানাই আর নদী বারবার বসতভিটা ভাঙে। অভাব অনটনের পরিবার। নিজের জায়গা জমি না থাকায় নদীর কিনারে নদীর সাথে লড়াই করে বসবাস করতে হচ্ছে। সহায় সম্ভল যা ছিলো সব নদীর গর্ভে চলে গেছে। অন্যের বাড়িতে বসবাস করছি।
অনেকে বসতভিটা হারিয়ে পরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। অনেক অসহায় মানুষ স্থান পরিবর্তনের জায়গা না পেয়ে নদীর কিনারে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছেন। কুশিয়ারার নদীর ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে কটলীপাড়া কোনাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিজুরী, শিকপুর ফেরীঘাট, চন্দরপুর বাজার, চন্দরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল এমদাদ হাইস্কুল, আছিরগঞ্জ বাজার, হযরত আমুইশাহ(র) মাজার, নোয়াই-মোল্লারচক লঞ্চঘাট, উজার মেহেরপুর, বাগলা উত্তরপাড়া, ডেপৃুটি বাজার, লামা মেহেরপুর বাজার, পনাইরচক উচ্চ বিদ্যালয়, সদাইশাহ(র) মাজার, শেখপুর লঞ্চঘাট, মীরগঞ্জ বাজার, খাটকাই বাজার, বসন্তপুর বাজার।
এ ব্যাপারে বাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক একে আজাদ জানান বাগলা গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি ঘর দীর্ঘ ৪বছর থেকে নদী ভাঙ্গনের শিকার। নদী ভাঙ্গনের ফলে নিরীহ সাধারণ মানুষ বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। এখন থেকে নদী ভাঙ্গন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে নদীর তীরবর্তী এলাকার বসতভিটা আরো ক্ষতি হবে। যেভাবে নদী আঙ্গন শুরু হয়েছে বসতভিটায় বসবাস করা খুবই ঝুকিপূর্ণ।
বুধবারী বাজার ইউনিয়রে কটলীপাড়া কোনাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জানান বিদ্যালয়ের মুলভবন থেকে নদীর দুরত্ব প্রায় ৩৫ফুট। যে ভাবে নদীন ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। যেকোন মুহূর্তে বিদ্যালয় ধসে যেতে পারে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। চন্দরপুর বাজারের ব্যবসায়ী শরফ উদ্দিন জানান নদীর ভাঙনে চন্দপুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান বিলিন হয়েছে। যে কোন সময় বাজারের অস্তিত্ব বিলিন হতে পারে।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নের গুয়াসপুর গ্রামের আব্দুস সুবহান জানান রাতের অন্ধকারে হঠাৎ আমার বসতভিটা নদীতে নেমে গেছে। এতে আমার কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। পনাইরচক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ জানান নদীর ভাঙনে বিদ্যালয়ের সীমানায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। যে কোন সময় বিদ্যালয়ের ক্ষতি সাধন হতে পারে।
বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ জানান নদীর পানি কমে যাওয়ার ফলে কুশিয়ারা জনপদের বিভিন্ন এলাকা নদীর গর্ভে বিলিন হচ্ছে। এখন থেকে নদীতে ব্লক বাধঁ নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *