Saturday, January 18

” কেল্টুর পরিবর্তন “



ধ্রুব দেব অর্ণব ::
গ্রামের নাম নন্দপুর।সেই গ্রামেরই এক দুরন্ত ছেলে কেল্টু।পড়ালেখায় পটল তুলেছে।তার সমবয়সীরা তিন শ্রেণি উপরে উঠে গেছে কিন্তু কেল্টু এখনও পঞ্চম শ্রেণিতেই হামাগুড়ি দিচ্ছে।শিক্ষকরা ধরেই নিয়েছেন কেল্টু আর প্রাথমিক স্তর পার হতে পারবে না।বিদ্যালয়ে তার নাম যথারিথি আদুভাই এ রুপান্তরিত হয়েছে।তবে কেল্টুর তাতে কিছুই যায় আসে না।সে পড়ে,খুব মন দিয়ে পড়ে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না।এতে তো তার কোনো দোষ নেই।তাকে তার মতো করে না বুঝালে সে বুঝবেই বা কি করে?তাই তো পরীক্ষায় কৃতকার্য হয় না সে।
কেল্টুর মা-বাবার তাই কেল্টুকে নিয়ে ভীষণ চিন্তা।একে তো ছেলের পড়ালেখার পেছনে এত এত টাকা খরচ করছেন কিন্তু ছেলে তাদের পঞ্চম শ্রেণির গন্ডিই পার হতে পারছে না।লজ্জায় মায়ের মুখ লাল হয়ে যায়।বাবা কারো সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেও পারেন না।কেল্টুকে কত করে বুঝান যে পড়ালেখা করলে তারই ভালো হবে,একটা ভালো চাকরি পাবে,সমাজে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে।কিন্তু সেইসব কথা কেল্টুর এক কান দিয়ে ঢুকে আর আরেক কান দিয়ে বের হয়ে যায়।
কোথাও যেন এক বিস্তর শূণ্যস্থান রয়ে গেছে।কেল্টু জানে সেই শূণ্যস্থানে কোন শব্দ বসালে তার জন্য ভালো হবে।কিন্তু আর কেউ তো বুঝে না,বুঝতে চায়ও না।শুধু এক পড়ালেখা আর পড়ালেখা।কেন পড়ালেখা ছাড়া কি জগতে আর কিছুই নেই?কি এমন হয় পড়ালেখা না করলে?কেল্টু কোনো প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে পায় না।তার মন পড়ালেখায় আবদ্ধ থাকতে চায় না,চায় না ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে।সে তো পাখির মতো উড়তে চায়,ভ্রমণ করতে চায় দেশ-বিদেশের অচেনা জায়গাগুলো,সৃষ্টি করতে চায় নতুন কিছু।কিন্তু তার স্বপ্ন পুরণের পথে প্রধান বাধা এই লেখাপড়া তাকে শিকলবন্দি করে রেখে দেয় যে শিকল চাইলেও ছিড়তে পারে না সে।
আজও কেল্টু ক্লাসে এসেছে।গণিত ক্লাস।গণিতের শিক্ষক জনাব আতাউল সাহেব একটু বেশিই কড়া।সেজন্য কেল্টুর উনাকে একদমই পছন্দ নয়।শিক্ষকরা যেমন শিক্ষার্থীদের থেকে ভালো রেজাল্ট আশা করেন তেমনি শিক্ষার্থীরাও একজন ভালো শিক্ষক খুঁজে যে শিক্ষকের সাথে তারা ভালোভাবে মিশতে পারবে,শিখতে পারবে অনেক কিছু।কিন্তু আতাউল সাহেব ঠিক তার বিপরীত।চোখে চশমা আর হাতে ইয়া লম্বা কচি বাঁশের বেত নিয়ে ক্লাসে ঢুকেই গত দিনের পড়া আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।যারা পড়া দেখাতে পারে না তাদের পিঠে পড়ে ১০ টা করে বেতের ঘা।সেই হিসেবে কেল্টু কোনোদিনই বেতের ঘা থেকে রেহাই পায় না কারন সে কোনোদিনই অংক করে নিয়ে আসতে পারে না।
স্বভাবতই আজও যখন আতাউল সাহেব কেল্টুকে অংক দেখাতে বললেন কেল্টু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।অগত্যা বেতের ঘা’ই প্রাপ্য হলো তার।এভাবে প্রত্যেক ক্লাসেই বেতের ঘা অথবা কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নতুবা ব্রেঞ্চের তলায় মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকা এমন আজব আজব শাস্তি ভোগ করতে হয় তাকে।কেল্টুর আর এসব ভালো লাগে না।এভাবে জোর করে পড়ানোকে তার বিদ্যা গেলানোর মতোই মনে হয় অথচ সে ছোটবেলায় কোনো এক বইয়ে পড়েছিল “বিদ্যা কখনো ঠেলে মুখের ভিতর ঢুকিয়ে লাভ করানো সম্ভব নয়।জোর করে কিছু শেখানো যায় না।ধীরে ধীরে বুঝিয়ে এবং বাস্তবিকভাবে দেখিয়ে বিদ্যা অর্জন করাতে হয়।”তার জ্ঞানী শিক্ষকবৃন্দ কি এই সামান্য কথাটাই জানেন না?
সমাপনী পরীক্ষায় এবারেও কেল্টু অকৃতকার্য হলো।তার বন্ধুরা পঞ্চম শ্রেণি পেরিয়ে গেল।কেল্টু ভয়ে ভয়ে ঘরে গিয়ে ঢুকল।মায়ের সামনে পড়লে আর রক্ষা নেই তার।তাই চুপি চুপি গিয়ে নিজের ঘরে বসে রইল।কিছুক্ষণ পর কেল্টুর মা এসে তার কানটা মলে দিয়ে বললেন,” জানতাম এবারেও তুই ফেল করবি,তোকে এত এত খাওয়াই কি এর জন্য?আর লেখাপড়া করার কোনো দরকার নেই তোর।আমার চোখের সামনে আর কখনো আসবি না।যা বের হয়ে যা এখান থেকে।”
কেল্টু খুব আত্মগরিমাসম্পন্ন এক ছেলে।এবার পনেরোতে পা দিয়েছে সে।এই দুরন্ত কিশোরকে তার মা এভাবে বলতে পারল কি করে?কেল্টু আর কিছুই বুঝতে চাইল না।অনেক সহ্য করেছে সে।আর সহ্য করবে না।মায়ের বলা ওই কথায় যে কতটা বেদনা আর লজ্জা লুকিয়ে ছিল সেটা কেল্টু বুঝার চেষ্টাটা পর্যন্ত করল না।লক্ষ্য করল না তাকে এতকিছু বলে তার মাও খুশি নয়,উনিও ঘরে বসে কাঁদছেন।কেল্টু এবার এর শেষ দেখতে চায়।তাই সে এক চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল।
ওইদিন রাতে তার মা-বাবা ঘুমানোর পর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।মা তাকে এখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন তাই সে সেটাই করল।কিছুটা ভয় করছিল।তবে সে এখন আর ছোট বাচ্চা নয়,সে এক দুরন্ত কিশোর।তাই ভয়টাকে কাটিয়ে সে রাতের রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলো।চাঁদের আলোয় পথ চলতে তার কোনো অসুবিধা হলো না।হঠাৎ সে লক্ষ করল জঙ্গলের ঝোপের আড়াল থেকে একজোড়া সবুজ চোখ তার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে।কেল্টু কিছুটা ভয় পেল কিন্তু দৌড়ে পালালো না।ধীরে ধীরে সেদিকে এগুতে লাগলো।কাছে গিয়ে বুঝতে পারল তেমন কিছুই না,দুইটা শেয়াল।কেল্টু মুখ দিয়ে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ আওয়াজ করল আর শেয়াল দুইটা দৌড়ে পালানোর পথ খুঁজে পেল না।এই দেখে কেল্টু খিলখিলিয়ে হাঁসতে লাগল।
কেল্টু আবার পথ চলতে লাগল।কোথায় যাচ্ছে,তার গন্তব্যই বা কোথায় সেটা জানে না সে।তবে এতটুকু নিশ্চিত এতদিনে সে পড়ালেখার শিকল থেকে নিজেকে ছাড়াতে পেরেছে।এবার সে স্বাধীন তাই খুশিতে কেল্টু আত্মহারা হয়ে গেল।হাঁটতে হাঁটতে কখন জঙ্গলে এসে পৌছালো বুঝতেই পারল না।যখন বুঝল তখন সে জঙ্গলের অনেকটাই গভীরে চলে এসেছে।চারদিকে গাছপালায় ঘেরা জঙ্গল।চাঁদের আলোও গাছের ফাঁক দিয়ে খুব সামান্যই প্রবেশ করছে।সেই আলোতে পথ দেখা যায় না।তাই কেল্টু একটা গাছের নিচে বসে পড়ল।সেই গাছের মগডালে থাকতো একজোড়া শালিক পাখি।তারা গাছের নিচে এক কিশোর ছেলেকে বসে থাকতে দেখে বেশ অবাক হলো।উড়ে এসে কেল্টুর পাশে বসলো।কেল্টুর চোখ তখন কিছুটা লেগে গিয়েছিল।
ডানা ঝাপটানোর শব্দে চোখ খুলেই সে জিজ্ঞেস করলো,”কে,কে এখানে?”একটি শালিক বলে উঠল,”আমরা শালিক কপোত কপোতি।তুমি এত রাতে এই জঙ্গলে কি করছ?জানো না এখানে পদে পদে কত বিপদ রয়েছে?”কেল্টু বলল,”আমার মা আমাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন তাই আমি হাঁটতে হাঁটতে এখানে চলে এসেছি।”শালিক কেল্টুর এমনধারা কাজের কারন জানতে চাইলে কেল্টু সবকিছু খুলে বললো।সব শুনে শালিক বললো,”এতো তুমি ভারী অন্যায় কাজ করেছ।তোমার মা তো তোমায় মন থেকে এসব বলেন নি।কাল সকালে তোমায় দেখতে না পেয়ে তোমার মা-বাবার কি অবস্থা হবে জানো তুমি?তুমি বরং ফিরেই যাও।”কেল্টু বললো,”কখনো না।তুমিও আমার ভালো চাও না তাই ফিরে যেতে বলছ।আমি কাল সকালেই চলে যাব কিন্তু বাড়িতে নয়,জঙ্গলের আরও ভিতরে যাব,দেখি কি এমন বিপদ হয়।”শালিক বলল,”এখন বুঝছ না কিন্তু একদিন ঠিকই বুঝবে।সেদিন না আবার বেশি দেরি হয়ে যায়।আমরা চলি এবার।”শালিক কপোত কপোতি আবার গাছের উপর চলে গেল।কেল্টুও গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়ল।
পরের দিন সকালে কেল্টুকে সারা বাড়ি তোলপাড় করে খুঁজেও যখন পাওয়া গেল না তখন তার মা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।বাবা বাজারে বাজারে ঘুরে শেষে মুখ কালো করে ফিরে এলেন।কেল্টুর মা বুঝতে পারলেন যে উনার জন্যই কেল্টু হয়তো দূরে কোথাও চলে গেছে।এই অপরাধবোধে তিনি নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিলেন।এদিকে কেল্টু সকালের মিষ্টি আলোয় পথ চলতে থাকল।হাঁটতে হাঁটতে তার দেখা হলো এক ফণাধারী বিষধর সাপের সাথে।কেল্টু তার দাদুর কাছে শুনেছিল সাপ খুব বিষধর আর হিংস্র প্রাণী।সাপকে দেখতে পেলেই মেরে ফেলা উচিত।তাই কেল্টু পাশে পড়া থাকা একটি শুকনো গাছের ডাল হাতে তুলে নিয়ে সাপটিকে মারার উদ্দেশ্যে এগুতে লাগলো।
সাপটি নিজের বিপদ বুঝেই কেল্টুকে বলে উঠল,”কেন তুমি আমায় মারতে চাও,আমার অপরাধটা কি?”কেল্টু বলল,”আমার দাদু বলেছে সাপ খুব বিষাক্ত আর হিংস্র প্রাণী তাই তোমাকে মেরে ফেলব আমি।”সাপ বলল,”তোমার দাদু মনে হয় পড়ালেখা করেন নি?নাহলে জানতেন সাপ কখনোও বিনা কারনে কাউকে দংশন করে না।আমরা বিষাক্ত হতে পারি কিন্তু আমরা অকারনে আমাদের বিষক্ষয় করি না।”তখন কেল্টু বলল,”কি বলছ এসব?এখানে পড়ালেখা আসছে কোথা থেকে?দাদু সত্যিই পড়ালেখা করেন নি মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি অবধি পড়েছিলেন কিন্তু তাতে তোমাদের বিষয়ে না জানার কি আছে?”সাপ বলল,”সেটাই তো।পড়ালেখা করলে অনেক কিছু জানা যায়।মনে হয় তুমিও পড়ালেখা করনি তাই তো একটা নিরীহ জীবকে মারতেও একবার ভাবলে না।জীব হত্যা মহাপাপ জানোনা তুমি?”কেল্টু ভ্রু কুচকে বলল,”আমি পড়ালেখা করি আর নাই করি তোমার কাছ থেকে এত জ্ঞান শুনতে চাই না।যাও তোমায় মারলাম না।কিন্তু আর একটা কথা বললে এই ডালের এক বারিতে মেরে ফেলব তোমায়।”সাপ বলল,”চাইলে আমিও তোমায় এখনি এক ছোবলে মেরে ফেলতে পারি।কিন্তু আমি তা করব না কারন আমার মা বাবা আমায় শিখিয়েছেন কাউকে বিনা কারনে ছোবল মারতে নেই।”
কেল্টু ডালটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।একটা অবলা জীব তাকে বড় বড় কথা শুনিয়ে গেল ভেবে তার খুব রাগ হচ্ছিল।রাগ হলে আবার তার প্রচন্ড ক্ষিদা পায়।তাই একটা ফলের গাছের অনুসন্ধান করতে লাগল কিন্তু কোথাও পেল না।পেটে এক শতাধিক ইঁদুর যেন লাফালাফি করছে।শেষে জঙ্গলের শেষ মাথায় এক ভগ্ন কুঠির খুঁজে পেল।সেখানে গিয়ে দরজায় ঠুকা দিতেই এক কাঠুরিয়া দরজা খুলে দিল।কেল্টু কাঠুরিয়ার কাছে কিছু খেতে চাইল।কাঠুরিয়া কেল্টুকে ভিতরে নিয়ে বসালো।ঘরে তেমন কিছুই নেই তাই সামান্য গুড় মুড়ি খেতে দিল।
কেল্টু সেটাই বসে বসে খাচ্ছিল এমন সময় কাঠুরিয়া বলে উঠল,”পড়ালেখা করি নি বাবু,তাই তো আজ জঙ্গলে এসে কাঠ কাটতে হচ্ছে নইলে হয়তো আজ বড় কোনো চাকরি করতে পারতাম এবং জীবনটাও অন্যরকম হতো।”কাঠুরিয়ার মুখে এমন কথা শুনে কেল্টু অবাক না হয়ে পারল না।সে বলল,”পড়ালেখা না করলে এমন কি হয়?আমিওতো পড়ালেখা করব না বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি তাতে কি এমন হলো?”কাঠুরিয়া তখন হেঁসে জবাব দিলো,”হাহা তুমি কি কখনোও ক্ষিদার যন্ত্রণায় কাতর হয়েছ?কখনোও কি একা পথে হেঁটেছ?কখনোও কি অচেনা কারো বাড়িতে থেকেছো?”কেল্টু সব প্রশ্নের উত্তরেই না বললো।তখন কাঠুরিয়া বললো,”তোমাকে এসব করতে হয় নি কারন তুমি এতদিন পড়ালেখা করছিলে,তোমার মা-বাবার কাছে ছিলে।কিন্তু যেই তুমি পড়ালেখা সব ছেড়ে পালিয়ে এলে তখন থেকেই হয়তো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছ,তাই না?”কেল্টু বললো,”হ্যাঁ হচ্ছিই তো,প্রথমে শালিক তারপর এক সাপ এবং এখন তুমি আমায় জ্ঞান দেওয়া শুরু করেছ।ভালো লাগে না আমার এত জ্ঞান শুনতে।কাঠুরিয়া বলল,”তুমি ভুল ভাবছ,আমরা সবাই তোমার ভালোর জন্যই এসব বলছি।পড়ালেখা না করলে তোমার নিজেরই ক্ষতি হবে।এই যেমন আমি কাঠ কেটেও খাবার যোগাড় করতে পারি না এমন অবস্থাই হবে তোমার।”কেল্টু রেগে গিয়ে বলল,”হয়েছে হয়েছে আমি এবার আসি।তোমার এত বড় বড় কথা অন্য কোথায় শুনাও গিয়ে যাও।”
কেল্টু সেখান থেকে চলে এলো।কিন্তু এবার সে পড়লো বেশ দুটানায়।সবাই যখন এক পড়ালেখার কথাই বলছে তখন নিশ্চই পড়ালেখার একটা গুরুত্ব রয়েছে।কেল্টু ভাবলো,”একবার চেষ্টা করে দেখাই যাক না।যদি দেখি পড়ালেখা করে কোনো উন্নতি হচ্ছে না তখন না হয় আবার পালিয়ে আসব।”যেই ভাবা সেই কাজ কেল্টু যে পথে এসেছিল সেই পথেই আবার ফিরে গেল।মন পরিবর্তন হয়ে গেল তার।
হাঁটেতে হাঁটতে সন্ধ্যার মধ্যেই সে বাড়িতে ফিরে এলো।তাকে দেখতে পেয়ে তার মা আনন্দে কেঁদে ফেললেন।কাছে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।কেল্টু তার মাকে বলল এবার থেকে সে খুব মন দিয়ে পড়ালেখা করবে।কেল্টুর মা-বাবা এই কথা শুনে খুব খুশি হলেন।কেল্টুর জন্য আলাদা করে একজন শিক্ষকও রাখলেন।কেল্টু এখন দিন রাত পরিশ্রম করে লেখাপড়া করে।এই বছর পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় সে খুব ভালো নাম্বারে কৃতকার্য হয়ে গেল।আর কখনোই কেল্টু বেতের ঘা খায় নি।সে পড়ালেখায় একটা আলাদা মজা খুঁজে পেল।এভাবেই ঘটল কেল্টুর পরিবর্তন।এখন কেল্টু তার থেকে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ায়।বেশ ভালোই লাগে কেল্টুর।
গল্প থেকে শিক্ষাঃ
(১)সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।
(২) শিক্ষকরা যেমন মেধাবী ছাত্র খুঁজেন তেমনি শিক্ষার্থীরাও একজন ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক খুঁজে তাই শিক্ষকদেরও তেমন হওয়া উচিত।
(৩) বিদ্যা কখনোও জোর করে আয়ত্ত্ব করানো সম্ভব নয়।
(৪) মা বাবা কখনো মন থেকে ইচ্ছা করে তার সন্তানদের বকেন না।
(৫) জীবহত্যা করা মহাপাপ।
(৬) সাপ কখনোও নিজে থেকে কাউকে বিনা কারনে দংশন করে না তাই তাকে না মেরে তার পথেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
(৭) ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
( লেখক : ধ্রুব দেব অর্ণব , শীক্ষার্থী মৌলভী বাজার সরকারী কলেজ )

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *