Saturday, January 25

কে এই জাকির?



বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ব্যবসায়ী সইবন আহমদ (৫০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নাম উঠে আসা জাকির হোসেন জোরপূর্বক বিয়ে করেন তার নিজেরই খালাতো বোনকে। এরই সূত্র ধরে সিলেট নগরীর আখালিয়ায় শ্বশুর আফতাব উদ্দিনের ক্রয় করা ৩০ শতক জমিও সে দখল করে রেখেছে অনেক আগে থেকেই। ভাগ্নের দখল থেকে জমি পুনরুদ্ধারের আশায় নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে অনেকটা বাধ্য হন আমেরিকা প্রবাসী আফতাব উদ্দিন এবং তার স্ত্রী সুলতানা বেগম।

এছাড়াও যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠায় কিশোর বয়স থেকেই বেপরোয়া হতে থাকে সে। সর্বশেষ বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ব্যবসায়ী সইবন আহমদ হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে নাম উঠে আসায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার (২৮ এপ্রিল) রাত থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে জাকিরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ওঠে। এসব ছবিতে তাকে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বিধান কুমার সাহার সাথে মঞ্চে বসা দেখা যায়। তার চাচা ছমির উদ্দিন আখালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

চাচাতো ভাই লিমন মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এই সুবাদে জাকির যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং সিলেটের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর আস্থাভাজনদের ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পায়। নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গেট পর্যন্ত সকল ছিনতাই এবং অপরাধ রাজ্যের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক ছিল সে।

এছাড়াও সইবন হত্যার প্রধান আসামী জাকির চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সাথে জড়িত। তার হেফাজত থেকে রক্তমাখা যে মাইক্রোটি পুলিশ উদ্ধার করে সেটিও একটি চোরাই গাড়ি বলে জানা গেছে।

বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাকির তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা থেকে সালেহ আহমদ নামের এক আদম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চায়। পরে সামাজিক শালিসে বিষয়টি আর বেশিদূর গড়ায়নি।

জাকিরের স্ত্রীর বড় বোন শিপা জানান, সে আমাদের বাড়িতে আসলে শুধু ঘুমিয়ে কাটাত। বাড়ির বাইরে বেশী বের হতোনা। বেশীরভাগ সময় চট্রগামে থাকতো।

শিপার কথার সূত্র ধরে সিলেটের বিভিন্ন মাধ্যম জানা যায়, নগরীতে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে বিপদ কাটাতে সে আত্মগোপনে শ্বশুর বাড়ি চলে আসে। তার স্ত্রী রিপাও বেশীরভাগ সময় বাপের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার খশির সড়কভাংনী এলাকায় থাকেন। স্বামীর সকল অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার জানাশুনা আছে।

সড়কভাংনী এলাকার অপর আরেক ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই সে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আসা যাওয়া করতো। তবে প্রতিবারই সে গাড়ি বদল করে নিয়ে আসতো।

এদিকে বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী সইবন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ জাকির হোসেনের ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে আজহারুল ইসলাম আরিফ জাকিরকে একমাত্র আসামী করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যুবলীগের রাজনৈতিক আশ্রয় এবং প্রভাবশালী মন্ত্রী বলয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্যাডার হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসবেন বহু অপরাধের ‘হোতা’ জাকির হোসেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *