Tuesday, January 21

”গুরুত্বহীন জেব্রা ক্রসিং”



আব্দুল হাদী ::
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং কোথায় কোথায় আছে আমার জানা নেই। তবে সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হওয়াতে কিছু কিছু জায়গায় জেব্রাক্রসিং দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু যাদের জন্যে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়েছে তারা কি কেউ এ ব্যাপারে জানে ? কোথাও জেব্রা ক্রসিং দেখলে ড্রাইভাররা তাদের গাড়ির গতি আরো বেশি বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার মধ্যে কোথাও আড়াআড়ি রং দেওয়া দেখলে তাদের কাছে এগুলো তামাসার বিষয় বলেই মনে হয় । জেব্রা ক্রসিং গুরুত্ব বহন করলেও যাদের জন্যে দেওয়া হয় তাদের কাছে এর কোন গুরুত্ব নেই।
আমরা সাধারনত জানি রাস্তার যেখানটায় জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়ে থাকে সেখানে মানুষের সমাগম থাকে বেশি , এছাড়াও স্কুল , কলেজ , মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্টান থাকে রাস্তার পাশে । সেই সব স্থানে গাড়ি চলাচলের নির্দিষ্ট গতিবিধি রয়েছে। এই গতি অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা কিন্তু গাড়ির গতি দেখবে কে ? কোন পথচারি যদি মনে করে এখানে জেব্রা ক্রসিং আছে আমি ধিরে ধিরে রাস্তার এ পাশ থেকে অন্যপাশে চলে যেতে পারবো , তাহলে নির্ঘাত তার মৃতে্যু ঘটবে , কারন ড্রাইভারেরা এ বিষয়টির ব্যাপারে সম্যক জ্ঞ্যান রাখেনা , তারা মানুষটিকে মারার জন্যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসবে।
সম্প্রতি আন্দোলনের পর থেকে যানবাহনগুলো আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। মহা সড়কে ট্রাট এবং বাসগুলো এতোটাই বেপরোয়া, মনে হয় তারা রাস্তায় একটি অন্যেটির সাথে যুদ্ধে নেমেছে। তাদের প্রতিযোগিতার যুদ্ধ মহাসড়ককে পরিণত করছে মৃতে্যুর মিছিলে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত এটাকে বর্তমানে মহাসড়ক বললে নিতান্তু ভূল হবে ,রাস্তার গর্তগুলো দেখলে মনে হয় ছোট ছোট পুকুর ,মাঝে মধ্যে ইট-বালু আর কিছু গালা দিয়ে এসব পুকুর ভরাট করা হয় আবার ট্রাকের চাকায় লেগে এগুলো উটে যায়। আমাদের মহাসড়কটি পরিণত হয়েছে মহাবিপদে। রাস্তার যেমন বেহাল দশা তেমনি গাড়িগুলোও বেহাল হয়েই চলাফেরা করছে।
এসব গাড়ির মধ্যে সিএনজি নিয়ে হচ্ছে আরেকটা জামেলা , ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও পথচারিরা ,ড্রাইভার , মালিক সবাই চায় চলুক । তাই প্রতিনিয়তই চলছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ মহোদয়গণ হঠাৎ করে কোথা থেকে এসে মহাসড়কের বিপদজনক কোন মোড়ে এসে নজরধারি শুরু করেন সিএনজির উপর। কিন্তু হরহামেশা চলছে সেগুলোতে উনাদের মৌন সম্মতি রয়েছে না হলে চলবে কেমন করে , তাহলে লোক দেখানোর প্রয়োজনটা কি ,লোক দেখানো আইনের কারনে সিএনজি গুলোই মহাসড়কে বিপদের একটি কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
সিএনজি চলুক আর বন্ধ হোক সেটা আমার বিষয় নয় এ দুইয়ের মধ্যে যারা আছেন সেটা তাদের বিষয় কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার কথাটা আমি বলি , যতটা সিএনজি মহাসড়কে চলাচল করে প্রতিটা সিএনজির ড্রাইভারের মনে একটাই আতংক এইতো পুলিশ এইতো পুলিশ। এই আতংক নিয়ে রাস্তার মধ্যে যে অবস্থার সৃস্টি করে তাতে সড়ক দূর্ঘটনা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে। ড্রাইভার হওয়ার বয়সের আগেই সিএনজি চালিয়ে ড্রাইভার হয়ে যায় অনেকেই। পথচারি থেকে শুরু করে সবার সাথে তাদের ব্যবহারটাও সেই রকম ,এরা যখন সিএনজি চালায় তখন মনে হয় উড়োজাহাজ মহাসড়ক দিয়ে উড়াচ্ছে। তাদের কাছেতো জেব্রা ক্রসিং একটা হাস্যকর বিষয়।
সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার কুরুয়া এবং দয়ামীর বাজারে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়েছে। তার পাশে লেখা হয়েছে ছাত্রলীগ তাতে বুঝা যায় এ কাজটি উপজেলায় যারা ছাত্রলীগ করেন তারাই করেছেন। এটা নিতান্ত ভালো একটি কাজ , কেননা যেসব জায়গায় এগুলো দেওয়া হয়েছে সে জায়গাগুলো জেব্রাক্রসিং এর উপযোগি। ছাত্রলীগের যারা জেব্রা ক্রসিংগুলো দিয়েছেন বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে শূনে দিয়েছেন হয়তো , কিন্তু যাদের জন্যে দেওয়া হয়েছে তারা কি কেউ এ বিষয়টির ব্যাপারে জানেন ,তাদের জানানোর এবং মেনে চলার দায়িত্বটা নেবে কে ?
যেখানে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়েছে সেখানে গাড়ির গতির প্রতিযোগিতাই নজরে পড়ে বেশি। সাদা রং দিয়ে যেন জানানো হচ্ছে এখানে গাড়ি দৌড়ের প্রতিযোগিতার স্থান ,এরকম বলেই মনে হয় যানবাহনের গতি দেখে। মুল কথা হচ্ছে যারা বিষয়টি মেনে চলার কথা তারা কিছুতেই মানছে না। সম্ভব হতো যদি প্রযুক্তির ব্যবহার সঠিক ভাবে করা যেত । আমরা সাধারনত নিয়ম বুঝিনা কিংবা মানিনা কিন্তু গধাটাকে বেশ ভালোভাবেই মানি। যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে যানবাহনের গতিবিধি লক্ষ্যে করে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হতো তাহলে সড়কের মৃতে্যুর মিছিলটা কমে যেত।

abdul.hadi010@gmail.com

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *