Monday, January 27

গোলাপগঞ্জে পানিবন্দি এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট



গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি::
সিলেটের গোলাপগঞ্জে বন্যার পানিতে এখনো হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোলাপগঞ্জের শরিফগঞ্জ, উত্তর বাদেপাশা, ভাদেশ্বর, বুধবারীবাজার, ঢাকাদক্ষিণ, আমুড়া ও ভাঘা ইউনিয়নসহ ৭টি ইউনিয়নের নি¤œাঅঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ভাবে কোন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়নি বলে বন্যার্ত মানুষ অভিযোগ করেছেন। ওই সব ইউপির বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা বন্যার পানি নিমজ্জিত হয়েগেছে। গ্রাম্য রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা কবলিত মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর পানি গত মঙ্গলবার কিছুটা পরিবর্তন হলেও সুরমা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি সুরমা নদীরপাড় এলাকায় বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে সরেজমিনে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী শরীফগঞ্জ, বাদেপাশা, ভাদেশ্বর, বুধবারীবাজার, ঢাকাদক্ষিণ, আমুড়া ইউনিয়ন পরিদর্শন কালে দেখা যায় গতকাল মঙ্গলাবার কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওইসব ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষজন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এসব এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাবও দেখা দিয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তাঊহীদ আহমদ জানান বন্যা কবলিত এলাকায় পৃথক পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও কোন রোগবালাই দেখা দেয়নি। তবে তাদের মেডিকেল টিম কড়া সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন এবং বন্যা কবলিত এলাকায় সময় সময় মনিটরিং করছেন।
সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাঘা ইউপি, ফুলবাড়ী ইউপির একাংশ ও গোলাপগঞ্জ ইউপির একাংশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে। উপজেলা বন্য কবলিত এলাকায় গো-খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন তীর্থের কাকের মত বসে আছেন ত্রাণ সমাগ্রীর অপেক্ষায়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *