Monday, January 20

ট্রাম্প-কিম বৈঠক: বিশ্বের মনোযোগ সিঙ্গাপুরের দিকে



দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক এ বৈঠক দুদেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়বে না দীর্ঘদিনের বৈরিতা বয়ে নিয়ে যাবে তা দেখতে বিশ্বের মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এখন সিঙ্গাপুর।

এরই মধ্যে বৈঠকে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে গেছেন ট্রাম্প ও কিম। রোববার সিঙ্গাপুরে পৌঁছান ট্রাম্প; তার আগেই সিঙ্গাপুরে উড়ে গেছেন কিম।

উভয় নেতা সম্মেলন ‌‘ইতিবাচক হবে’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

এ সম্মেলন ওয়াশিংটনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ‘নতুন সম্পর্ক’ স্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

সম্মেলনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থার ইতি টেনে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তিও সই হতে পারে। সেইসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার পথ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত ১৮ মাসে উত্তরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার সম্পর্কের উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। প্রথম দিকে একে অপরকে চূড়ান্ত অপমান করে যুদ্ধের হুমকি দিলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুজনের মধ্যে উষ্ণতার আবহ গড়ে ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় এ সম্মেলন। এতে বৈরিতারর পরিবর্তে জেগে উঠেছে শান্তির আশা।

এ আশাকে রূপায়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক। বৈঠকটি ইতিবাচক, নাকি নেতিবাচক হবে তা নির্ভর করবে দু’পক্ষের সদিচ্ছার ও নমনীয়তার ওপর।

সম্মেলনে অংশ নিতে রোববার দুপুরের দিকে এয়ার চায়নার একটি উড়োজাহাজে করে কিম সিঙ্গাপুর পৌঁছান। আর কানাডায় জি৭ সম্মেলন শেষ করে সেখান থেকে আকাশপথে ২০ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে ওইদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পৌঁছান।

সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর উভয় নেতাই দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সানতোসা দ্বীপে ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পম্পেও বলেন, “আমরা অনুমান করছি, তারা এমনকি আমাদের আশার চাইতেও দ্রুত গতিতে একটি যুক্তিসংগত সামাধানে পৌঁছাবেন।

“এ সম্মেলন আমাদের সম্পর্কের গতিপথ পরিবর্তনের এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার একটি অভূতপূর্ব সুযোগ।”

তবে এ বৈঠকে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেও জানিয়েছেন তিনি। পম্পেও বলেন, “ভবিষ্যতে আমাদের যে কঠোর পথে চলতে হবে তার একটি কাঠামো এই সম্মেলনে নির্ধারিত হবে।”

উত্তর কোরিয়াকে আগে সম্পূর্ণ, প্রমাণসাপেক্ষ এবং অপরিবর্তনীয় নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত দেশটির উপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

যদি কূটনৈতিক আলোচনা সঠিক পথে অগ্রসর না হয় তবে ‘নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়বে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণই ট্রাম্প-কিম বৈঠকের মূল ইস্যু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করুক। যুক্তরাষ্ট্রের এ চাপ উত্তর কোরিয়া প্রতিরোধ করবে বলেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু বিনিময়ে তারা কী চাইতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *