Monday, January 20

পংকজের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা



ধর্ষণ মামলায় তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত আলোচিত পংকজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী আসামীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ কামাল মুহাম্মদ তৈয়ব জানান, মামলার বাদী জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণীর এক কর্মচারী। তিনি তারাপুর চা বাগানের অভ্যন্তরে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের পেছনে একটি টিনসেড ঘরে বসবাস করতেন। তার স্বামী অন্য চাকরি নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। চার বছরের ছেলেকে নিয়ে ভিকটিম ঐ ঘরেই বসবাস করে আসছিলেন। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর সকালে তারাপুর এলাকার বাসিন্দা রাজেন্দ্র লাল গুপ্তের পুত্র পংকজ কুমার গুপ্ত (৫০) ওই মহিলার ঘরে আসেন। পংকজ তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে তার সাথে কথা বলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ভিকটিমকে তার অফিসে যেতে বলেন। পংকজের কথায় ভিকটিম তার অফিসে গেলে প্রথমে তিনি কু প্রস্তাব দেন এবং এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে ভিকটিমের সহকর্মীরা উদ্ধার করে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার(ওসিসি)-এ ভর্তি করেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটে একটি মামলা দায়ের করেন ভিকটিম। যার নং ৭৪৪/২০১৭।

এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারী আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের প্রবেশন অফিসারকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রবেশন অফিসার মো. তমির হোসেন চৌধুরী গত ১৬ এপ্রিল আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ভিকটিমকে ধর্ষণের চেষ্টা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার শুনানীর দিন মঙ্গলবার প্রবেশন অফিসারের দেয়া প্রতিবেদনের উপর আলোচনা হয়। বাদীর আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলার একমাত্র আসামী পংকজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহ কামাল মুহাম্মদ তৈয়ব আরো জানান, আদালতের কজলিস্টে আসামী পংকজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি এবং আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে পরোয়ানা ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *