Friday, January 17

পুত্রকে বাঁচাতে বিত্তবানদের কাছে ওসমানীনগরের বৃদ্ধ মায়ের আকুতি



শিপন আহমদ::দিনমজুর পরিবারের সন্তান কিশোর মিয়া (৩২)।
দ্ররিদ্রতায় ঘেরা পরিবারে আকাশের মাপের উচ্চ স্বপ্ন নিয়ে চলছিল তাঁর পথ। হঠাৎ নেমে এলে ঘোর অন্ধকার। গলায় প্রথমে টিউমার পরবর্তীতে তা ক্যান্সারে রুপ নেয়। প্রায় ৬ মাস থেকে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা গিয়ে কিশোরের পরিবারও পথে বসেছে। রাজধানীর ডেলটা হাসপাতালে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সারোয়ার আলমের অধিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বর্তমানে টাকার কোনো সংস্থান নেই কিশোরের পরিবারের। তাই শঙ্কার মেঘ এখন কিশোরের চোখে মুখে। এ অবস্থায় চিকিৎসা পরোদমে বন্ধ হওয়ায় আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের খাদিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক (দপ্তরী কাম নৈশ্য প্রহরী) কিশোরের। অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া জানা কিশোর ২০১৩ সালে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরীর চাকুরীতে যোগদান করেন। ছুরাব আলী ও তুলা বেগম দম্পত্তির ৫ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে কিশোর তৃতীয়। একমাত্র বোনটিও বিবাহের উপযুক্ত। তার পিতা মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর পূর্বে।
কিশোরের বৃদ্ধা মা তুলা বেগম কান্নাজণিত কন্ঠে বলেন, গত ছয় মাস ধরে সিলেট থেকে ঢাকার পথে ছুট ছুটতে সব শেষ। ধার-কর্য্য করে ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরছ করেছি। পরিবারের ব্যয় ও চিকিৎসা খরছ করতে গিয়ে আমার চোখে এখন অন্ধকার। টাকার অভাবে এখন যথা সময়ে থেরাপী দিতে পারছি না। ডাক্তাররা এই পর্যন্ত তাকে ৪টি ক্যামো থেরাপী দিয়েছেন। ডেলটা হাসপাতালে প্রতিটি ক্যামোতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা করে খরছ হয়েছে। ডাক্তারা জানিয়েছেন তাকে আরো ৪টি ক্যামোসহ ৫ সপ্তাহ রেডিও থেরাপী দিতে হবে। তাকে সুস্থ করে তুলতে হলে আরো প্রায় ৭ লক্ষ টাকার প্রয়োজন রয়েছে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: মো: কিশোর মিয়া এসি নং-১৪০৬১০১৬৬১৭৪.পূবালী ব্যাংক লিঃ,গোয়ালাবাজার শাখা,ওসমানীনগর:সিলেট।বিকাশ-০১৭২০৯৩১৯৩৮।
শিক্ষক নেতা প্রতাব চক্রবর্তী বলেন,কিশোরের পরিবার খুব দরিদ্র। শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে ব্যাক্তিগত ভাবে তাদের পরিবার সম্পর্কে অবহিত। ক্যান্সারে আক্রান্ত কিশোরের চিকিৎসার ব্যয় তার পরিবার বহন করতে পারছে না।
বালাগঞ্জ উপজেলা অফিস সহায়ক সমিতির আবুল হাসান, সজীব দেব ও সুহেল মিয়া বলেন, এখন মানুষের সহমর্মিতা ছাড়া সামনে আর কোন পথ খোলা নেই কিশোর ও তাঁর পরিবারের। সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সহযোগিতায় আমরা ফিরে ফেতে পারি আমাদের সহকর্মীর নতুন জীবন।
বালাগঞ্জ উপজেলা অফিস সহায়ক সমিতির শেখ মুনিরুজ্জামন মুনির ও মো:শেলু মিয়া সেলিম বলেন, নিয়তি যেন সব বন্ধ করে দিয়েছে সহকর্মী কিশোরের। ইতিমধ্যে আমরা সামান্য সয়াহতা দিয়েছি যা ক্যান্সার আক্রান্ত কিশোরের জন্য যৎ সামন্য। এ অবস্থায় সমাজের সর্বস্তরের হৃদয়বানদের আর্থিক সহয়োগিতায়ই এক বৃদ্ধ মা ফিরে পাবেন তাঁর আদরের সন্তানকে। বিবাহ উপযুক্ত ছোট বোনটি নতুন করে আসার স্বপ্ন দেখতে পারে।
বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভুইয়া বলেন,আমি খোঁজ খবর নিয়ে যতটুকু যেনেছি কিশোরকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে চিকিৎসকরা আশাবাদী। তবে অর্থের অভাবে চিকৎসার ব্যায় ভার বহন করতে না পারায় আশার আলো ফুরিযে আসছে কিশোর ও তার পরিবারের। সমাজের ধনবান ও হৃদয়বানদের একদিনের খাবার টাকা দান করলে অসহায় এ যুবক সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াবায়েদ উল্লাহ বলেন, টাকার অভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত কিশোরের চিকিৎসা যাহাতে থেমে না তাকে সে জন্য আমার পক্ষ থেকে সব রখমের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে পত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের আহব্বান জানিয়েছি। এছাড়া মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে সাহায্য চেয়ে প্রতিবেদন প্রেরন করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *