Friday, January 17

পুরুষ দেখলেই ভয় পায় শিশু রাইসা



পুরুষ লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠে শিশু রাইসা। মা ও ভাই খুনের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও ভয় কাটছে না তার। সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে খালা লিপিকে নিয়ে থাকছে রাইসা। সে যে কক্ষে থাকছে, সেই কক্ষের চাবি ভয়ে বার বার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। সে পুরুষ দেখলে ভয় পাচ্ছে, লুকিয়ে যাচ্ছে। চার বছরের শিশুকন্যা রাইসাকে এখনো মা ও ভাই হত্যার সেই ভয়ানক স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ভয় আর আতঙ্কে সময় যেন অসহ্য হয়ে ওঠেছে রাইসার জন্য। ঘাতকেরা তার চোখের সামনেই একের পর এক ছুরিকাঘাতে খুন করেছে তার মা ও ভাইকে।

সিলেট নগরীর খারপাড়ায় মিতালী ১৫/জি নম্বর বাসায় নির্মমভাবে খুন করা হয় পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম এবং তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, ভয়ঙ্কর আক্রোশ নিয়ে রোকেয়া ও ছেলে রোকনের শরীরকে ছুরিকাঘাতে চিহ্নভিন্ন করা হয়েছে। রোকেয়ার মেয়ে রাইসাকেও গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করতে চেয়েছিল ঘাতকরা। রাইসা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর মৃত ভেবে ফেলে যায় ঘাতকের দল। এরপর মা ও ভাইয়ের লাশের সঙ্গেই দু’দিন কাটে শিশু রাইসার। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর তাকে আনা হয় কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। খালা লিপিকে নিয়ে এখন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই আতঙ্ক আর ভয়ে কাটছে রাইসার একেকটি দিন।

মা ও ভাইকে হত্যার ঘটনায় রাইসার মামা জাকির হোসেন বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেলে পুলিশ নাজমুল নামের একজনকে ভটেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করে।

রাইসার মামা জাকির হোসেন জানান, ‘তার ছোট বোন লিপি রাইসাকে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকছেন। শিশু রাইসা এখনো আতঙ্কিত। সে কিছুক্ষণ পরপরই কান্নাকাটি করছে। আতঙ্কে কাটছে তার সময়। পুরুষ দেখলেই সে ভয়ে লুকিয়ে যায়।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ‘রাইসাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে বেঁচে গেছে। তার মনে এখনো ভয় কাজ করছে। সে যে কক্ষে থাকছে, সেটির চাবি বার বার লুকিয়ে রাখছে। তার ধারণা, কেউ এসে তাকে মেরে ফেলবে। সে পুরুষ দেখলে ভয় পাচ্ছে, লুকিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুরুষ পুলিশ সদস্য দেখলেই সে ভয় পায়। আমরা কেউই তার পাশে যাচ্ছি না। তিনি বলেন, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রোকেয়া খানম তাকে দেখাশোনা করেন। তিনি তার কাছে যান। অন্য কোনো পলিশ সদস্য তার কাছে যাচ্ছেন না।’

উল্লেখ্য, গত পয়লা এপ্রিল সিলেট নগরীর খারপাড়া থেকে পারলার ব্যবসায়ী রোকেয়া ও তার ছেলে রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় জীবিত অবস্থায় শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা লাশ উদ্ধারের অন্তত দু’দিন আগে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় সিলেট শহরতলির বটেশ্বর বাজার থেকে নাজমুল হাসান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গত বুধবার আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *