Wednesday, January 22

‘বাবার বাড়ি’র ইফতারে সবাই সমান



হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহ শরীফ। ইফতারের তখনও প্রায় আধাঘন্টা বাকি। দরগাহ মসজিদের ভেতরে লাইন ধরে বসা কয়েক শ’ মানুষ। এরা সবাই রোজাদার। মসজিদের বাইরে মহিলা ইবাদতখানার ভেতরে ও ছাদের উপরেও আরো কয়েকশ’ নারী-পুরুষ ইফতার সামনে নিয়ে আজানের অপেক্ষায়। এদের কেউ সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে, কেউবা এসেছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে। সবার অনুচ্চারিত উদ্দেশ্য, ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার এলাকায় ইফতার করা। শাহজালালের মাজারকে তাঁর ভক্তরা ‘বাবার বাড়ি’ নামেই ডাকেন। ‘বাবার বাড়ি’তে ইফতারে নেয়ামত বেশি-এমন বিশ্বাস নিয়েই এখানে ছুটে আসেন তারা।

শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজন থাকে দ্বিগুণ মানুষের জন্য। এই দু’দিন মাজারে থাকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের আধাঘন্টা আগে শাহজালালের মাজারের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা আগত মুসল্লি বা মুসাফিরদের মধ্যে ইফতারের টোকেন বিতরণ করেন। এই টোকেন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থান থেকে ইফতার নিয়ে বসেন সবাই। নারী ও পুরুষদের জন্য আছে আলাদা স্থান।

মাজারের মসজিদে সিলেট নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতারে সামিল হন। তবে মসজিদের ভেতরে কারো জন্য ইফতারের ব্যবস্থা মাজার কর্তৃপক্ষ করেন না। এখানে যারা ইফতার করেন, তারা নিজেরাই ইফতার নিয়ে আসেন। সেসব ইফতার পরস্পর ভাগ করে খান সবাই। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ নানা ধরনের ইফতার এখানে পাঠান। প্রতিদিন ধনী-গরীব সবাই এক কাতারে বসে ইফতার করেন এখানে। মাজার এলাকা ও মসজিদ মিলিয়ে প্রতিদিন সহ¯্রাধিক লোক ইফতার করেন ‘বাবার বাড়ি’তে।

হযরত শাহাজলাল (রহ.) এর মাজারে ইফতারের আগে কথা হয় রংপুর থেকে আসা জামিল আহমদের সাথে। তিনি জানান, প্রতি বছর রমজানে শাহজালালের মাজারে আসার চেষ্টা করেন তিনি। এখানে ইফতার করলে অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভবের কথাও জানালেন পেশায় ব্যবসায়ী জামিল।

মাজার মসজিদে ইফতার করতে আসা সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের মেহেদি হাসান বলেন, রমজানে কয়েকদিন এখানে ইফতার করি। বাসা থেকে ইফতার নিয়ে আসি। আগত রোজাদারদের সাথে ভাগ করে ইফতার করি।

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার অফিসের কর্মকর্তা মো. আবদুল মোছাব্বির জানান, ইতিহাসের তথ্যানুসারে হযরত শাহজালাল (রহ.) রমজান মাসে তার সঙ্গীদের নিয়ে একসাথে ইফতার করতেন। তিনি পরলোকগমনের পর তাঁর অনুসারীরা একইভাবে এখানে ইফতার করে চলেছেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *