Sunday, January 26

বিশ্বনাথে দুই অপহরণকারী আটক, অপহৃত শিশু উদ্ধার



বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: বিশ্বনাথে ৫বছরের স্কুল পড়ুয়া শিশু অপহরণ করে বিকাশে ২০হাজার টাকা মুক্তিপন চেয়েছে অপহরণকারীরা। অপহৃত শিশু হলো-উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সিংড়াওলী গ্রামের কৃষক বকুল মিয়ার ছেলে হোসাইন আহমদ ও স্থানীয় ইকরা একাডেমীর শিশু শ্রেনীর ছাত্র। আজ সোমবার বেলা ২টায় উপজেলা সদর থেকে মুক্তিপনের টাকা বিকাশে তুলতে গিয়ে অপহৃত শিশুসহ দুইনারী অপহরণকারীকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে বকুল মিয়ার আপন চাচাতো বোন একই গ্রামের আলা উদ্দিনের মেয়ে আলিমা বেগম (১৬) ও রাহিমা আক্তার পূর্নিমা (১৩)। আটককৃত আলিমা বেগম সিংগেরকাছ পাবলিক বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও রাহিমা আক্তার পূর্নিমা একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী বলে তারা জানায়।

জানাগেছে, প্রতিদিনের ন্যায় আজ সোমবার সকালে সিংগেরকাছ বাজারস্থ ইক্রা মডেল একাডেমীতে যায় হুসাইন আহমদ। দুপুর ১১ টা ৪৫ মিনিটের সময় রাহিমা আক্তার পূর্নিমা উক্ত একাডেমীতে গিয়ে সে নিজেকে হুসাইন আহমদের ফুফু পরিচয় দিয়ে তাকে (হুসাইন) বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। একপর্যায়ে একাডেমী থেকে হুসাইনকে সাথে নিয়ে রাহিমা আক্তার পূর্নিমা ও আলিমা বেগম বিশ্বনাথ বাজারে অবস্থান নেয়। কিন্তু বেলা ১টার পরও শিশুটি স্কুল থেকে ফিরে বাড়ি না যাওয়া পরিবারের লোক একাডেমী ছুটে যান। একাডেমীতে গিয়ে শিশুর পরিবারের লোকজন শিক্ষকদের তাদের শিশু বাড়িতে যাই বলে জানান। এসময় শিক্ষকরা শিশুর পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন একজন নারী এসে শিশুর ফুফু পরিচয় দিয়ে কিছুক্ষণ আগে (সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায়) তাকে একাডেমী থেকে নিয়ে গেছেন। এরপর শিশুকে তার পরিবারের লোকজন খোজাখুজি শুরু করেন এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এর কিছুক্ষণ অপহরণকারী শিশুর পিতার বকুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল করে তার কাছে ২০হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বলা হয় ‘তুমার ছেলে আমাদের কাছে আছে, বিকাশ নাম্বারে ২০হাজার পাঠিয়ে দিলে আমরা তাকে অক্ষত অবস্থায় দিয়ে দিব’। জবাবে বকুল মিয়া বলেন ‘২০হাজার নয় প্রয়োজন হলে ৫০ হাজার টাকা আমি দিয়ে দিব, তবুও আমার ছেলেকে ফেরত চাই’। এসময় অপহরণের প্রমাণ হিসেবে অপহৃত হুসাইনকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তার পিতার সঙ্গে কথা বলায় অপহরণকারীরা। তাৎক্ষণিক বকুল মিয়া বিশ্বনাথ থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরই মধ্যে অপহরণকারীরা বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত টাকা জন্য বার বার বকুল মিয়াকে ফোন করে। একপর্যায়ে পুলিশের পরামর্শে অপহরণকারীকে দেয়া বিকাশ নাম্বারে ১০হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ওই বিকাশ নাম্বারের অবস্থান চিহিৃত করা হয়। বিশ্বনাথ থানা পুলিশ দ্রুত উপজেলা সদরের আল হেরা মার্কেটের নীচ তলায় বিকাশ এজেন্ট গ্রামীণ টেলিকম-১ এ গিয়ে হাতে হাতে নাতে ওই দুই নারীকে আটক করে এবং অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় ওই দোকানের মালিক উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা গ্রামের সুলতান খানের পুত্র ফিরোজ খান (২৮) ও সামছুল ইসলাম খান (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে, শিশু অপহরণের ঘটনায় উপজেলা সদরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক কৌতলী জনতা থানায় ভিড় জমান। ভিড় সামাল দিতে থানা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে থানার প্রধান ফটকটি বন্ধ করে দেয়া হয়। উদ্ধারকৃত শিশু হুসাইন অক্ষত থাকলেও তার মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। পিতা ও স্বজনদের কোলে থেকেও সে কান্নাকাটি করছে। আতংকে বাবার কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে।
অপহৃত শিশু উদ্ধার ও দুইনারী অপহরণকারীকে আটকের সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের সনাক্ত করি ও তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটককৃতদের মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হবে। অপর দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটককৃত দুই যুবক এঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *