Monday, January 20

বুলেটে আন্দোলন স্তব্ধ হয় না



নিউজ ডেস্ক :
অর্ধ শতক পেরিয়ে গেছে—নাগরিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এক শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন; কিন্তু মানুষ তাঁকে আজও ভোলেনি। তাঁকে হত্যার মুহূর্তটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পরপর ৩৯ বার বেজে ওঠে ঘণ্টা। লুথার কিংয়ের নেতৃত্ব ৩৯ বছর বয়সেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বর্ণবাদ আর শ্রেণিবিদ্বেষ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে এফোঁড় ওফোঁড় করছে। তবে সে দেশবাসী সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় বিরতি দেয়নি। তাই গত বুধবার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস শহরে লোরেইন মোটেলের সামনে হাজির হয় হাজার হাজার মানুষ। এই মোটেলের বারান্দায়ই ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়েছিলেন লুথার কিং। মোটেলটিকে পরে জাতীয় নাগরিক অধিকার জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।
মোটেলটির সেই একই বারান্দার দাঁড়িয়ে গত বুধবার ভাষণ দেন লুথার কিংয়ের অন্যতম বিখ্যাত অনুসারী রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন। নেতার মৃত্যুর মুহূর্তটি স্মরণ করে ৭৬ বছর বয়সী জ্যাকসন উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘এই বারান্দা থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, একটা বুলেট একটা আন্দোলনকে থামিয়ে দেবে, সেটা আমরা হতে দেব না।’ তিনি আরো বলেন, ‘কখনো লড়াই থামাইনি, আমরা কখনো হাল ছাড়িনি।’
লুথার কিংয়ের আন্দোলন আজও জীবিত বটে, তবে তাঁর স্বপ্নের মর্মার্থ মানুষ খুব অল্পই উপলব্ধি করতে পেরেছে, এমনটা মনে করেন বিশ্লেষকরা। মেমফিসে জনতার পদযাত্রায় যোগ দেওয়া লুথার কিংয়ের ছেলে তৃতীয় মার্টিন লুথার কিং বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের পরিস্থিতির দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাব, ৫০ বছরে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে; কিন্তু যে পরিস্থিতিতে আমাদের থাকা দরকার ছিল, সেটার ধারেকাছেও আমরা যেতে পারিনি। তিনি (লুথার কিং) জানতেন, জাতি হিসেবে আমরা আরো ভালো কিছু করতে পারব, করতেই হবে এবং আমরা সেটা করব।’ সূত্র : এএফপি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *