Wednesday, January 22

বৈরী আবহাওয়ায়-রোগে আক্রান্ত ধান আর শ্রমিক সংকটে শংকিত বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে কৃষকরা!



শিপন আহমদ::গত তিন-চার দিন ধরে থেমে থেমে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা ধান পাকার মুহূর্তে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ হয়ে মরতে শুরু করায় ফসল ঘরে তুলা নিয়ে উপজেলার কৃষককূলে অজানা আতঙ্গ বিরাজ করছে। বিশেষ করে যে কৃষকরা ব্রি ধান-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছিলেন তারাই বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ক্ষতির পর যেটুকু ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রযেছে শ্রমিকের অভাবে তাও ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এ ব্লাস্ট রোগের জন্য বিগত সময়ের বৈরি আবহাওয়াকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উপজেলার হাওরগুলোতে দ্রুত বোরো ধান কাটতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। গত বছর চৈত্রের অকাল বন্যায় শতভাগ কাঁচা বুরো ধানের বিপর্যয় ঘটে। এবারও সেই ভয় তাড়া করায় কৃষকরা একটু আগেই ধান কাটার শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দুই উপজেলার প্রায় চল্লিশ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে ধান পাকার সময় ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ এলাকায়ই মরে যাচ্ছে ফসল। যার কারণে ধানের শীষে সারহীন ধানের সংখ্যাই বেশী। অনেকে এসব ধান কেটে ঘরে তুললেও সারশূন্য ধানের সংখ্যাই বেশী। অনেকে সেই মরা ধান না কেটে জমির মধ্যেই গরুকে খাওয়াচ্ছেন বলে কষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। কৃষক তাজ উদ্দিন, জবর উদ্দিন, উমরপুর ইউয়িনের কৃষক বাবুল মিয় বলেন,বছরজুড়ে এবার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার হাওরগুলোতে আশাতীত ফলনে কৃষকরা আশাবাদি। ইতোমধ্যে প্রায় সকল হাওরে ধান পাকতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা উৎসব শুরু হবে। গতবারের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার বোরো জমির পাশাপাশি আউশ ও আমনের জমিতেও ব্যাপক বোরো আবাদ করা হয়ে ছিল। কিন্তু ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অধিকাংশ ধানই মরে যাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটরে কারনে পাকা ধান গুলো ঘরে তুলতে পারছি না। কৃষকরা আরও জানান, অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের ফলন আশাতিত হলেও ২৮ জাতের ধানে প্রায় ৮০ ভাগ ছিটা রয়েছে। এজাতীয় ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের এবার খুবই লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরউপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের হাওরগুলোতে এবার বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩হাজার, ৯শ ৭৫হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১৫হাজার ৯শ ২৫হেক্টর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে হাইব্রিড ২হাজার ২শ ৯৫হেক্টর, উফশী ১২হাজার ৫শ ৯০হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১হাজার ৪০হেক্টর। এর মধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬হাজার, ৯শত, ৬৫হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ৭হাজার ৯শ ৩০হেক্টর। ওসমানীনগরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭হাজার ১০হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ৭হাজার, ৯শ ৯৫হেক্টর।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন- যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসতে পারে তাই দ্রুত ফসল ঘরে তুলার জন্য ইতিমধ্যে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে কথা বলেছি এবং মাইকিং করার ব্যবস্থা করছি। কিছু কিছু এলাকায় ব্রি ২৮ জাতের কিছু ফসল ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়েছে। যেসব ধান পেকে গেছে সেগুলোর ব্যাপারে কিছু করার নেই। অন্যান্য ফসল যাতে এই রোগে আক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের কঠোর নজরদারী রয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত, রয়েছে শ্রমিক সংকট
বিগত দিনের ভয় তাড়া করছে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে কৃষকদের
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:
গত তিন-চার দিন ধরে থেমে থেমে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা ধান পাকার মুহূর্তে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ হয়ে মরতে শুরু করায় ফসল ঘরে তুলা নিয়ে উপজেলার কৃষককূলে অজানা আতঙ্গ বিরাজ করছে। বিশেষ করে যে কৃষকরা ব্রি ধান-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছিলেন তারাই বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ক্ষতির পর যেটুকু ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রযেছে শ্রমিকের অভাবে তাও ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এ ব্লাস্ট রোগের জন্য বিগত সময়ের বৈরি আবহাওয়াকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উপজেলার হাওরগুলোতে দ্রুত বোরো ধান কাটতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে। গত বছর চৈত্রের অকাল বন্যায় শতভাগ কাঁচা বুরো ধানের বিপর্যয় ঘটে। এবারও সেই ভয় তাড়া করায় কৃষকরা একটু আগেই ধান কাটার শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দুই উপজেলার প্রায় চল্লিশ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে ধান পাকার সময় ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ এলাকায়ই মরে যাচ্ছে ফসল। যার কারণে ধানের শীষে সারহীন ধানের সংখ্যাই বেশী। অনেকে এসব ধান কেটে ঘরে তুললেও সারশূন্য ধানের সংখ্যাই বেশী। অনেকে সেই মরা ধান না কেটে জমির মধ্যেই গরুকে খাওয়াচ্ছেন বলে কষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। কৃষক তাজ উদ্দিন, জবর উদ্দিন, উমরপুর ইউয়িনের কৃষক বাবুল মিয় বলেন,বছরজুড়ে এবার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার হাওরগুলোতে আশাতীত ফলনে কৃষকরা আশাবাদি। ইতোমধ্যে প্রায় সকল হাওরে ধান পাকতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা উৎসব শুরু হবে। গতবারের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার বোরো জমির পাশাপাশি আউশ ও আমনের জমিতেও ব্যাপক বোরো আবাদ করা হয়ে ছিল। কিন্তু ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অধিকাংশ ধানই মরে যাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটরে কারনে পাকা ধান গুলো ঘরে তুলতে পারছি না। কৃষকরা আরও জানান, অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের ফলন আশাতিত হলেও ২৮ জাতের ধানে প্রায় ৮০ ভাগ ছিটা রয়েছে। এজাতীয় ফসল উৎপাদনকারী কৃষকদের এবার খুবই লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরউপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের হাওরগুলোতে এবার বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩হাজার, ৯শ ৭৫হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১৫হাজার ৯শ ২৫হেক্টর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে হাইব্রিড ২হাজার ২শ ৯৫হেক্টর, উফশী ১২হাজার ৫শ ৯০হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১হাজার ৪০হেক্টর। এর মধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬হাজার, ৯শত, ৬৫হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ৭হাজার ৯শ ৩০হেক্টর। ওসমানীনগরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭হাজার ১০হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ৭হাজার, ৯শ ৯৫হেক্টর।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন- যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসতে পারে তাই দ্রুত ফসল ঘরে তুলার জন্য ইতিমধ্যে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে কথা বলেছি এবং মাইকিং করার ব্যবস্থা করছি। কিছু কিছু এলাকায় ব্রি ২৮ জাতের কিছু ফসল ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়েছে। যেসব ধান পেকে গেছে সেগুলোর ব্যাপারে কিছু করার নেই। অন্যান্য ফসল যাতে এই রোগে আক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের কঠোর নজরদারী রয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *