Wednesday, January 22

ভারতে নিপা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১৫



ভারতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

সর্বশেষ ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই দুইজনই কেরালার কোঝিকোদেত এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে কারাসেরির ২৮ বছর বয়সী একজনের রক্তের নমুনায় নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার পর পুনের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজির এক সূত্র জানিয়েছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৭তে দাঁড়িয়েছে।

গত সোমবার কলকাতায় মারা যাওয়া এক সৈন্যও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিনু প্রসাদ নামে কেরালার বাসিন্দা ওই সৈন্যের কর্মস্থল ছিল কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে। কেরালায় মাসখানেকের ছুটি কাটিয়ে ফেরার ৭ দিনের মাথায় গত ২০ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নিপা ভাইরাস সনাক্তে সিনু প্রসাদের রক্তের নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে।  ভারতের মধ্যে এটিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে রক্তে নিপা ভাইরাস সনাক্ত করা যায়।

এ দফায় কেরালার কোঝিকোদের এক বাড়ির ভেতরকার অব্যবহৃত কুয়া থেকে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুয়ার ভেতর বেশ কয়েকটি মৃত বাদুড় পাওয়া গেছে।

কুয়ার পাশে বসবাস করা এক পরিবারের বাবা ও দুই সন্তানসহ চার জন নিপায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে।

বাদুড়, শুকর বা অন্য কোনো আক্রান্ত প্রাণি ও ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে নিপা অন্যদেহে ছড়ায়। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশই মারা যান বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার কাম্পুং সুনগাই নিপা এলাকায় প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো এ ভাইরাস শনাক্ত হয়। ২০০৪ সালে বাংলাদেশেও ফলখেকো বাদুড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত খেজুরের রস খেয়ে অনেকে এ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ‘নিবিড় পরিচর্যাই’ আক্রান্ত ব্যক্তির একমাত্র চিকিৎসা, বলেছে তারা।

নিপা ভাইরাসে সংক্রমণের লক্ষণগুলো হল- শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কে প্রদাহ, জ্বর, মাথাব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, বিভ্রান্তভাব ও প্রলাপ বকা। আক্রান্ত রোগী সংক্রমণের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গভীর কোমায়ও চলে যেতে পারেন।

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ড. আর এল স্মৃথা বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩৫৩ জনকে ভাইরাসটি সংক্রামণের সন্দেহভাজন চালিকায় রাখা হয়েছে। তাদেরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল না খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগেও ভারতে ২০০১ ও ২০০৭ সালেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *