Saturday, January 18

‘ভার্জিন অব কোপাকাবানা’র অভিশাপে বিশ্বকাপ জিততে পারে না আর্জেন্টিনা!



আর্জেন্টিনার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে একটা ছোট্ট গ্রাম তিলকারা। যে গ্রামে ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির করেছিল কার্লোস বিলার্দোর দল। যে সময় পুরো গ্রামটিতে একটিমাত্র টেলিফোন ছিল। টিভি খুঁজলেও পাওয়া যেত না। আন্দিজ পর্বতমালায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আড়াই হাজার মিটার উচ্চতায় ওই গ্রামে শিবির করার একটাই কারণ ছিল। মেক্সিকোর উচ্চতায় খেলার প্রস্তুতি নেওয়া।

সেই প্রস্তুতি শিবির চলাকালীনই বিলার্দোর কানে আসে একটি উপকথা। ওই গ্রামের একটি মাত্র চার্চে ‘ভার্জিন অব কোপাকাবানা’র মূর্তি আছে। গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করেন, ওই মূর্তির সামনে যদি কিছু মানত করা হয়, তা হলে তা পূরণ হয়। আবার কোনও প্রতিশ্রুতি দিলে, সেটিও রক্ষা করতে হয়। না হলেই বিপদ। ৩২ বছর আগের সেই ঘটনার কথা এখনও মনে আছে স্থানীয় মানুযের।

আর্জেন্টিনার একটি ওয়েবসাইটে অতীতের সেই কাহিনি তুলে ধরেছেন ডেভিড গর্দিলো নামের জনৈক গ্রামবাসী। সে সময় ২৫ বছর বয়স ছিল গর্দিলোর। আর্জেন্টিনার সেই দলের সঙ্গে অনুশীলনও করতেন তিনি। এক বার ফুটবলারদের কাছে এই দেবী মুর্তির ক্ষমতার কথা বলেছিলেন গর্দিলো। তারপর ফুটবলাররা নাকি প্রতিশ্রুতি দেন, কোনোভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারলে তারা আবার তিলকারায় ফিরে ‘ভার্জিন অব কোপাকাবানা’কে ধন্যবাদ দিয়ে যাবেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা, সারাভেরাও প্রায় একই কথা বলেছেন। আর্জেন্টিনার অনুশীলনের জন্য মাঠ ভাড়া দিয়েছিলেন ভেরা। ভেরার বক্তব্য, তিনি জাতীয় দলের কোচ বিলার্দোকে নিয়ে ওই চার্চে গিয়েছিলেন। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ভেরা বলেছেন, ‘ভার্জিনের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে বিলার্দো বলেন, বিশ্বকাপে তারা যদি অসম্ভব সম্ভব করতে পারেন, তা হলে এখানে ফিরে এসে, হাঁটু মুড়ে বসে ধন্যবাদ জানাবেন।’

গল্পের এতটুকু পড়ে কী ভাবছেন? রাশিয়ার মাটি থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু লিওনেল মেসির পায়ের জাদুর ওপর ভরসা করে থাকলেই হবে না। পাশাপাশি তাদের খুঁজে বার করতে হবে ৩২ বছর আগের অভিশাপ থেকে মুক্তিলাভের উপায়ও! কারণ ৮৬র বিশ্বকাপ জয়ের পর বিলার্দোরা আর ফিরে যাননি তিলকারায়! লোকশ্রুতি অনুযায়ী, যে অভিশাপ নাকি এখনও তাড়া করে চলেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলকে। যে অভিশাপ নাকি দেশের ফুটবলের ওপর নিয়ে এসেছে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিশ্বকাপজয়ী দল!

এরপর দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে (১৯৯০, ২০১৪) উঠেও কাপ জেতা হয়নি তাদের। দুই বারই ফাইনালে এক গোলে হারতে হয়েছিল জার্মানির কাছে। আর্জেন্টিনার একটা অংশের মানুষ এখনও মনে করেন, এই ‘তিলকারার অভিশাপ’ থেকে এবারও মুক্তিলাভ ঘটবে না মেসিদের। রাশিয়া বিশ্বকাপ এবারও অধরা থেকে যাবে ফুটবল রাজপুত্রের। কিছু দিন আগেও বিলার্দো বলেছিলেন, তারা কোনোরকম প্রতিশ্রুতি দেননি কোথাও। দলের ফুটবলারদেরও বক্তব্য ছিল একইরকম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিলকারার গ্রামবাসীরা বলছে, প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিশাপ এখনও তাড়া করে যাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *