Saturday, January 18

মা-ভাইয়ের লাশের সাথে শিশু রাইসার দু’দিন : তানিয়া ও লোকনের সন্ধানে পুলিশ –



চার বছরের শিশু কন্যা রাইসা। তারই চোখের সামনে মা ও বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর মা ভাইয়ের লাশের সাথেই টানা দুইদিন কেটেছে শিশু রাইসার। রাইসা সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ খারপাড়ার ১৫/জে নম্বর বাসায় ভাড়াটে খুন হওয়া পারলার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগমের মেয়ে। রাইসা জানিয়েছে, তারা মা ও ভাইকে হত্যা করেছে তানিয়া নামের একজন। কে এই তানিয়া তাও গতকাল সোমবার পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, যে বাসায় খুন হন রোকেয়া বেগম তার পাশের বাসায়ই ভাড়া থাকেন শেফালি বেগম। গত রবিবার সকালে রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন চিৎকার শুনে বাসা থেকে বের হন শেফালি। গিয়ে তিনি দেখেন- জানালার পাশে জাকির কান্না করছেন।

শেফালী বলেন, ‘’ভিতরে ছোট্ট মেয়ে রাইসা এক রুম থেকে আরেক রুমে দৌড়াচ্ছে আর কান্না করছে। মামাকে দেখার পর মেয়েটা (রাইসা) সাহস পায়। বলতে থাকে- ‘তানিয়া ভাইয়ারে মারছে, আম্মারেও মারছে, আম্মার গলা কাটছে, তাড়াতাড়ি ডাক্তারো নিয়া যাও। আমার গলায়ও ধরছে।’ বলে কাঁদতে থাকে।’’

সূত্র মতে, গত বছর ১ এপ্রিল মীরাবাজারের খারপাড়ার বাসাটি ভাড়া নেন রোকেয়া বেগম। ঠিক এক বছর পর ১ এপ্রিল এই বাসা থেকে ছেলেসহ তার লাশ উদ্ধার করা হয়।বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তথ্য ফরমে রোকেয়া বেগম (৪০), রবিউল ইসলাম রুকন (১৭) ও জান্নাতুল ফেরদৌস রাইসা রাইস (৩) সহ লোকন মিয়া (৩৪) নামে একজনের নাম লেখা হয়। তবে লোকন মিয়ার পরিচয় বা তাদের সাথে কি সর্ম্পক ছিল তার কোন তথ্য নেই ফরমে। এমনকি গত রবিবার ওই বাসায় লোকন মিয়ার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। বাসার মালিক বা রোকেয়ার পরিবারের সদস্যরাও জানেন না কে এই লোকন মিয়া। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তানিয়া ও লোকনের সন্ধানে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

রুকিয়া বেগমের ছোট ভাই জাকির হোসেন বলেন, লোকন মিয়া নামে কাউকে তিনি চেনেন না। এমনকি তাদের পরিবারে এ নামের কেউ নেই।

বাসার মালিক সালমান হোসেন জানান, রোকেয়া বেগমের বাসায় একটি মেয়ে কাজ করতো। তবে তার নাম তিনি জানেন না। ধারণা করা হচ্ছে, কাজের মেয়েটির নাম তানিয়া হতে পারে।

মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাতে কারো নাম উল্লেখ না করা হলেও ৩-৪ জন আমাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তানিয়া ও লোকনের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। এখনো তাদের পাওয়া যায়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকশিশনার (উত্তর) মো. ফয়ছল মাহমুদ বলেন, আমরা প্রাথমিক ধারণা করছি, মা ও ছেলেকে গত শুক্রবারে হত্যা করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, শুক্রবার যদি হত্যাকান্ড ঘটেই থাকে সে হিসেবে শিশু রাইসা দুইদিন লাশের পাশেই ছিল। শিশুটি এখনো বেশ নার্ভাস। সে চিকিৎসাধীন আছে। আমরা আশাবাদী তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাবো।

উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর মিরাবাজারে খারপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসা থেকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই বাসা থেকে রোকেয়া বেগমের চার বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রাইসা রাইস কে উদ্ধার করা হয় ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *