Wednesday, January 22

মুক্তির জন্য রাজনীতির পদ ছাড়তে রাজি খালেদা



যেকোনো মূল্যে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ দশা থেকে মুক্তি চান। এমনকি রাজনীতি ও নেতৃত্ব ছেড়ে হলেও। আজ শনিবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ঐ মন্তব্য করেন। নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বিকেল ৪ টা থেকে সোয়া ৫ টা পর্যন্ত বিএনপির তিন নেতা কারাগারে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিএনপি মহাসচিব ছাড়া অন্য যে দুই নেতা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা হলেন মির্জা আব্বাস এবং নজরুল ইসলাম খান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর এটা তাঁর সঙ্গে মির্জা ফখরুলের চতুর্থ সাক্ষাৎ। প্রত্যেকবারই রাজনৈতিক সমঝোতা এবং তাঁর মুক্তি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। আজকের বৈঠকেও বেগম জিয়া অবিলম্বে কারামুক্তির চেষ্টা গ্রহণের জন্য নেতাদের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মুক্তির শর্ত হিসেবে তাঁর (বেগম জিয়ার) রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের প্রসঙ্গটিই মূলত: আজকের বৈঠকে আলোচিত হয়। এর আগে দলের সিনিয়র নেতাদের আপাতত: দলের পদ ছাড়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়েছিল। সে সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি বড় অংশ বেগম জিয়ার বিএনপির পদ ছাড়া কোনো ভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। সে জন্যই আজ মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কট্টরপন্থী দুই নেতারও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
বৈঠকে মূলত: বেগম জিয়া তাঁর শারীরিক বিভিন্ন অবস্থার বর্ণনা দেন। বেগম জিয়া নেতাদের জানান তাঁর বাম হাত ক্রমশ: অবশ হয়ে আসছে। ডান চোখে রক্ত জমেছে। বেগম জিয়া মির্জা আব্বাসকে বলেন, তুমি কি আমার মৃত্যু চাও? না চাইলে এখন ওরা যা বলে সব মেনে নাও। আগে তো বাঁচতে হবে। না বাঁচলে কি করবে? এই অবস্থায় আর বেশিদিন থাকা সম্ভব নয়।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম আপনি তো দল ছাড়ছেন না। শুধু সাময়িক ভাবে অফিসিয়ালি আপনি দলের চেয়ারপারসন থাকবেন না। তারেক সাহেব ভাইস চেয়ারম্যান থাকবেন না। এটা মাত্র অল্প দিনের ব্যাপার।’ বেগম জিয়া বলেন, ‘আমি বিএনপির পদ ছাড়লেও, আমি নেতা, আমাকেই মানুষ ভালোবাসে। তাই তাড়াতাড়ি ওদের প্রস্তাবে রাজি হন। আগে আমার মুক্তি দরকার, তারপর অন্য বিষয়।’ বেগম জিয়া দ্রুত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকে গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
তবে বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান কর্মীদের আবেগ অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, কর্মীদের এরকম সিদ্ধান্ত জানানো কঠিন হবে। তারা এজন্য নেতাদের দায়ী করবেন। এর উত্তরে অবশ্য বেগম জিয়া কিছুই বলেন নি। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুল ইসলামের মৃত্যুতে বেগম জিয়া শোক জানান। মন্তব্য করেন, ‘স্থায়ী কমিটি তো শূন্য হয়েই আছে। এগুলো ভরানোর উদ্যোগ নেন। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আপ্লুত বেগম জিয়া মির্জা ফখরুলকে বলেন, ‘শুধু দল নয়, আমার ভাগ্যও এখন আপনার হাতে। আশা করি আমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন।’ এসময় মির্জা ফখরুলও কেঁদে ফেলেন। সূত্র:banglaview71

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *