Saturday, January 18

মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই হাওরে ধান কাটছেন কৃষকরা



সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাওরে ধান কাটছেন কৃষকরা। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি আর বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্য দিয়েই ফসল উত্তোলনের সংগ্রাম চলছে হাওরে।

মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল থেকে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের বিকট শব্দ শুনা গেলেও এসব উপেক্ষা করে কৃষকরা পাকা ধান কাটতে হাওরে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার নলুয়া, পিলাং, হামালুতাসহ বিভিন্ন হাওরে সরেজমিনে দেখা যায় কৃষকরা আতঙ্কিত অবস্থায় ধান কাটছেন।

হামালুতা হাওরের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, খুবই ভয় হয় যখন বজ্রপাত শুরু হয়। মনে ভয় হতে থাকে।

এদিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে কালবৈশাখী ঝড়, অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে জগন্নাথপুরের মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বুধবার ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহবান করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পূর্ব প্রস্তুতি নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

কৃষকরা জানান, গত দুই বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধান তুলতে পারেননি। এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাকা ধান জমিতে দুলছে। এসব উপেক্ষা করে বছরের আহার জোগাতে ফসলের মাঠে রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুর রহমান সুমন বলেন, হাওরে কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় কৃষকরা পাকা ধান তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্য আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাই ঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা ধান তুলার কাজ করছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের উপসচিব অজয় কুমার চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত পত্রের আলোকে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার মাধ্যমে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে সকল চেয়ারম্যানদেরকে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *