Sunday, January 19

মেসিদের আচরণে হতাশ স্লাভিয়া গোলরক্ষক



নিউজ ডেস্ক ::
ম্যাচ শেষে সাধারণত দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌজন্যতা প্রকাশ করতে দেখা যায়। খেলোয়াড়রা করমর্দন করেন, অনেকে জার্সি বদলও করেন। ফুটবল খেলায় এটা পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু বার্সা বনাম স্লাভিয়া প্রাহার ম্যাচ শেষে সেই পরিচিত দৃশ্য ছিল প্রায় অনুপস্থিত। আর তাতেই হতাশা প্রকাশ করলেন চেক রিপাবলিকের ক্লাবটির গোলরক্ষক আন্দ্রে কোলার।
চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে স্লাভিয়াকে আতিথ্য দিয়েছিল ক্যাম্প ন্যু। এর আগে স্লাভিয়ার ঘরের মাঠ থেকে কোনোমতে জয় ছিনিয়ে আনলেও ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের গোলমুখ খুলতে পারেননি মেসি-গ্রিজম্যানরা। যদিও বেশকিছু সুযোগ পেয়েছিল বার্সা, কিন্তু সবই বিফলে গেছে স্লাভিয়ার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভের কারণে।
আসলে বার্সা কিংবা স্লাভিয়া দুই দলের ভাগ্যই ভালো ছিল। কারণ, গোল হজমের সুযোগ তৈরি হয়েছিল দুই দলেরই। বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে-টের স্টেগান তো একবার পরাস্তও হয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে বেঁচে গেছেন।
অন্যদিকে গোলরক্ষক কোলারের পারফরম্যান্সে ভর করেই কাতালুনিয়া থেকে ‘জয়ের সমান ড্র’ নিয়ে ফিরেছে স্লাভিয়া। মেসি-সার্জি রবার্তোদের শট একদম কাছ থেকে ঠেকিয়েছেন তিনি। আর তাতেই লা লিগা আর ইউরোপিয়ান গ্রুপের শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও বিপদের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেছে বার্সা।
দুর্দান্ত পারফর্ম করায় কোলারকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ম্যাচ শেষে ক্যাম্প ন্যু’র টানেলে অপেক্ষায় ছিলেন টের স্টেগান। এত বড় তারকা গোলরক্ষকের কাছ থেকে অভিনন্দন পেয়ে দারুণ খুশি কোরেল। কিন্তু একইসময়ে বার্সার বাকি খেলোয়াড়রা দ্রুত মাঠ ছাড়ার দিকেই মনোযোগী ছিলেন, যা ঠিক মেনে নিতে পারছেন না চেক গোলরক্ষক।
ম্যাচ শেষে চেক সংবাদমাধ্যমকে কোলার বলেন, ‘সে (টের স্টেগান) টানেলের কাছে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। সে আমাকে থামিয়ে বলল অনেকদিন সে এমন ভালো গোলকিপিং পারফরম্যান্স দেখেনি এবং আমার খেলা দেখে সে খুব খুশি বলে জানিয়েছে।’
জীবনে প্রথম ক্যাম্প ন্যুয়ে পা রেখেই সবার নজর কেড়ে নিয়েছেন কোলার। অখ্যাত স্লাভিয়ার সব খেলোয়াড়ের জন্যই এ এক বিশাল প্রাপ্তি। তার ওপর আবার বিশ্ববিখ্যাত জার্মান গোলরক্ষক নিজে যদি প্রশংসা করেন তাতে খুশি হওয়াই স্বাভাবিক। কোলার বলেন, ‘ম্যাচের শেষে সে (টের স্টেগান) আমার জন্য অপেক্ষা করেছে, আমি এটাকে অনেক বড় পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করছি। তার মতো দুর্দান্ত গোলরক্ষকের প্রশংসা আমাকে আন্দোলিত করেছে। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।’
টের স্টেগানের প্রশংসাবাণীতে মুগ্ধ হলেও মেসিদের আচরণে যে হতাশ হয়েছেন তাও অকপটে বলেন কোরাল, ‘কিন্তু বার্সা অন্য খেলোয়াড় বিশেষ করে মেসি ও অন্যরা সরাসরি চলে গেল- তাদের মধ্যে অনেকে আমাদের সঙ্গে করমর্দন পর্যন্ত করলো না। এটা দুঃখজনক। আমরা সবাই এত বড় সব তারকাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম, ম্যাচ শেষে জার্সি বদল করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদের আচরণ ছিল হতাশাজনক।’
মেসিদের আচরণে কষ্ট পেলেও কোলার অবশ্য তার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত কাটিয়েছেন। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আইকনিক স্টেডিয়ামের একটি থেকে তারা যে একটা পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পেরেছেন তাতেই খুশি তিনি, ‘আমি ফুটবলের জন্য বেঁচে আছি, এমন স্টেডিয়ামে খেলতে পারা আমার জীবনের সেরা ঘটনা। আমরা সবাই এটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম-এটা দলের সবার স্বপ্ন ছিল। আর এমন দারুণ ম্যাচ? অসাধারণ। বার্সার মতো দলকে গোল বঞ্চিত করা সবার ক্ষেত্রে ঘটে না।’
অনেকদিন পর এই মাঠে ক্লিন শিট বজায় রাখা আমরাই প্রথম দল। সবাই জানে বার্সেলোনা হচ্ছে গোল ফ্যাক্টরি। আমরা কিছু কঠিন মুহূর্ত কাটিয়েছি, কিন্তু এটাই সত্য যে আমরা গোল করতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছিল আমরা জিতে যাব।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *