Wednesday, January 29

মোকাব্বির খানকে ওসমানীনগর ছাত্রদলের বয়কট



নিজস্ব সংবাদদাতা :
ছিলেন শূন্য । প্রথম জনসভায় ছিল পুরো চেয়ার ফাঁকা! বিএনপির সমর্থন দেয়ার সাথে সাথে একদিনে পথসভা পরিণত হয় জনসভায়। কিন্তু আবারও পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে পূর্ন গণফোরামের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, সদ্য ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হওয়া মোকাব্বির খান শেষ মুহূর্তে আবারও শূন্য। উদীয়মান সূর্য প্রতীকের এ প্রার্থীকে সিলেট-২ আসনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কোলে তুলে নিলেও সমর্থন প্রচারের শেষ মুহূর্তে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার তাজপুরস্থ তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে তালা দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদল। আস্থাহীনতা, ছাত্রদলকে অবহেলা, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আড়ালে কটুক্তি করার অভিযোগ এনে মোকাব্বির খানকে বয়কট করার ঘোষণা দেয় তারা। শুধু তাই নয়, গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোকাব্বির খানকে ভোট না দেয়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের সাথে প্রকাশ্যে না থাকলেও উপজেলা বিএনপির অনেক নেতা মোকাব্বির খানকে ভোট না দিতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁদের দাবি, মোকাব্বির খান নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার পত্নী রুশদীর লুনার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রচারণা চালালেও আড়ালে ইলিয়াস পরিবার নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। তাছাড়া শূন্য থাকা মোকাব্বির খানকে একদিনের ব্যবধানে কেন্দ্র ও জেলার নির্দেশে জনসম্পৃক্ত করার পেছনে যাদের ভুমিকা তাদের কাউকেই পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি। বিএনপির কয়েকজন নেতা তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমে এখনো প্রচারণা চালালেও বাকি সবাই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যারা তাঁর (মোকাব্বির) সাথে আছেন তাঁদের সাথে আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মী।
বিএনপির নেতাকর্মীসহ ভোটারদের সাড়া সূর্য প্রতীকে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসেবে ডুবছে সূর্য। এতে করে উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এদিকে ছাত্রদলের সাথে সমর্থন দিয়ে মোকাব্বির খানকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ওসমানীনগর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মদল ও উপজেলা জাসাস।
গণফোরামের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান শেষ মুহুর্তে এসে ইলিয়াস আলী ও তাঁর পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের। তাঁকে নিয়ে গোলকধাঁধায় আছেন বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের নতুন প্রার্থী মোকাব্বিরের নির্বাচনী প্রচারণার সর্বেসর্বা হয়ে আছেন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা। এতে করে বিএনপিতেও চলছে কানাঘুষা।
তাছাড়া ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নাম শুনে চমকে ওঠেন ভোটার তথা সিলেট-২ আসনের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। তাঁকে কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ ভোটাররা। তাঁদের প্রশ্ন, কে এই মোকাব্বির? কোথা থেকে এলেন তিনি ? আর লড়বেন কিনা বর্তমান সাংসদ ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, স্বতন্ত্র ড. এনামুল হক সরদার, মুহিবুর রহমান, মুনতাসিরসহ পরিচিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মতে, প্রার্থী মোকাব্বিরকে সংসদীয় এলাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ চেনেনই না। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াসপত্নী লুনার প্রার্থিতা স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। আর এতে করেই সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মোকাব্বির খানের ভাগ্য খুলেছে।
এনিয়েও সংশয়ে আছেন বিএনপির একাধিক নেতারা। স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, ইলিয়াস আলী ও তাঁর পরিবারকে সিলেট-২ আসনে মাইনাস করতে নিজ দলের নেতারা ও বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করেছে। প্রকাশ্যে ইলিয়াস পত্নী লুনার সাথে থাকলেও আড়ালে বিএনপির কয়েকজন নেতা ইলিয়াস পরিবারের বিরুদ্ধে থাকায় এমনটা হয়েছে বলে জানান নেতাকর্মীরা। তবে ইলিয়াসপত্নী লুনার প্রার্থিতা স্থগিতাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো হতাশা বিরাজ করছে।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব রায়হান আহমদ জানান, উপজেলা ও কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে মোকাব্বির খানের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছিল। কিন্তু তিনি আমাদেরকে মূল্যায়ন না দিয়ে উল্টো বহিরাগতদের যুক্ত করে আমাদের অবহেলা করেন। তারা প্রকাশ্যে আমাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। নির্বাচনী প্রচারনায় ঝুঁকি ও ভোটের দিনের কার্যক্রম নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের এ প্রার্থীর সাথে এনিয়ে আলাপ করার জন্য বার বার বলা হলেও তিনি আমাদের কোনো ধরনের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে করে আমরা আস্থাহীনতায় ভুগছি।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব-রায়হান আহমদ,সাবেক সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক কবির আহমদ,যগ্ন-আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমান,সাহেদ আহমদ,কামরুজ্জামান কামরুল,রকিব আলী,রেদওয়ান আহমদ,মাসুদুর রহমান,হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী শফি,আব্দুস সামাদ মাহবুব,মনসুর চৌধুরী,সুহিনুল হক আক্তার,আতিকুল আলম,কয়েছ আহমদ,হুসাইন আহমদ হাসান,আমিনুর রহমান আমিন,এমদাদ আলী,রমজান আলী,তাজপুর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব-জুয়েব আহমদ সাবেক আহবায়ক সৈয়দ শাহজান আলী,১ম সদস্য জে আই সোহান,সাব্বির আহমদ,হিফজুর রহমান নাহিদ,গোয়ালা বাজার ইউ/পি ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ আহমদ,সাধারন সম্পাদক রাজু আহমদ রাজ,সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়েছ আহমদ,তাজপুর ইউ/পি ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবির আহমদ,ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক লায়েছ আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক জাহান মিয়া,দয়ামীর ইউ/পি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কমল চৌধুরী,সাধারন সম্পাদক সাদিকুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাইমিনুল ইসলাম,উছমানপুর ইউ/পি ছাত্রদলের সভাপতি শিবলু মিয়া,সাধারন সম্পাদক রুমেল আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল আহমদ মিলন,সাদীপুর ইউ/পি ছাত্রদলের সভাপতি কাজী শওকাত,সাধারন সম্পাদক আলী আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক,আব্দুস সালাম,উমরপুর ইউ/পি ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল আলীম,সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান ইসলাম,বুরুংগা ইউ/পি ছাত্রদলের সভাপতি সালেহ চৌধুরী,সাধারন সম্পাদক ফয়ছল আহমদ, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আবু-বকর সিদ্দীকি,সাধারন সম্পাদক সুভাব আহমদ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব,মুক্তিযুদ্বের প্রজন্মদলের আহবায়ক মাদুদুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *