Friday, January 24

রাজনৈতিক আশ্রয়ের শর্ত লংঘন করায় তারেক জিয়াকে দেশে ফিরতে হবে!



তারেক জিয়া রাজনৈতিক আশ্রয় অনুমতি বাতিল করার উদ্যোগে নিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। ৪ শর্তে লন্ডনে পলাতক বিএনপির এই

শীর্ষ নেতাকে যুক্তরাজ্য অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়ের শর্ত ভঙ্গ করায় তার এই অনুমতি বাতিল করা হচ্ছে।

৮ জুলাই ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট তারেক জিয়া এবং তাঁর পরিবারেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে লন্ডনে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক জিয়াকে দেশে ফেরত চায়।

১৫ ফেব্রুয়ারি ইন্টারপোল এই মর্মে নোটিশ প্রদান করে যে, তারেক জিয়া বাংলাদেশে দুটি মামলায় দণ্ডিত। একটি সন্ত্রাসী মামলা বিচারাধীন। এজন্য সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাঁর দেশে ফেরা প্রয়োজন। মার্চের প্রথম সপ্তাহে লেবার পার্টির ১২ জন এমপি তারেক জিয়া সহ ৮ জন ক্রিমিনালকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদানের সুযোগ বাতিল করার অনুরোধ করে। এইসব লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁর ব্যাপারে তদন্ত করে।

তদন্তে দেখা গেছে, তারেক জিয়া যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য প্রযোজ্য ৪ শর্তই লংঘন করেছে।

শর্তগুলো হলো:

  • ১. যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকাকালীন সময়ে কোন রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা ঘৃণা ছড়ানো যাবে না।
  • ২. রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে কোন সন্ত্রাসী, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা যাবে না।
  • ৩. ব্রিটেনের কোন নাগরিকের বিরুদ্ধে শারিরীক বা মানসিক নিপীড়ন করা যাবে না।
  • ৪. ব্রিটেনের জন্য প্রযোজ্য কোন দণ্ডনীয় অপরাধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তদন্তে দেখা গেছে, তারেক জিয়া লন্ডনে বসবাস করে বাংলাদেশ সরকার এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছেন, বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। তারেক জিয়া ৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাস হামলাসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গোয়েন্দা তদন্তেও তার জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছ। ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে হয়রানি করার জন্য তারেক জিয়া একাধিক সাংবাদিককে ঘুষ প্রদান করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিকীকে তারেক মানসিক নিপড়ন করেছে। ব্রিটিনে বসবাসরত অবস্থায় তারেক পাকিস্তান দূতবাসের মাধ্যমে একাধিক জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছেন। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।

গত জানুয়ারি মাস থেকেই বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে অপরাধী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। অপরাধী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশের দণ্ডিত অপরাধী যদি ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়, তবে ব্রিটিশ সরকার তাকে তার মূল দেশে ফেরত পাঠাবে। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষর হলেই তারেককে যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

কারণ, যুক্তরাজ্য অন্য যে দেশগুলোর সংগে এরকম অপরাধী বিনিময় চুক্তি করছে যেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা কোনো ব্যক্তি এই বিনিময় চুক্তির আওতায় পড়ে না। এই কারণেই বাংলাদেশ সরকার ঐ সমঝোতা চুক্তির পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুবিধা বাতিল করার আবেদন করে।

তারেক জিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ বাতিল হলে, তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে এবং তারেক যে দেশ থেকে এসেছেন, সেই দেশে অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। অবশ্য লন্ডনের একাধিক সূত্র বলছে, তার যেন ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ বাতিল না হয়’ সেজন্য ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *