Saturday, January 18

শিক্ষা নিতে পারি রায়হানের কাছ থেকে



বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। মৌসুমকালে পর্যটকদের পদচারণায় সাগরপাড়ে যেন জমে ওঠে এক অলিখিত মিলনমেলা। পরিবারের সদস্য, নবদম্পতিসহ সকল প্রকার মানুষ একটু পরিস্কার ও বিশুদ্ধ বাতাসে সিক্ত হতে আসেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। বিদেশি পর্যটকেরাও ছুটে আসেন বাংলাদেশের অনন্য এই পর্যটন নগরীতে।

মৌসুমকালে পর্যটকদের উপস্থিতিতে কক্সবাজার সৈকত যেন প্রাণ ফিরে পায়। সুযোগ পেলেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৈকতে গোসলে নেমে পড়েন অনেকেই। অনেকেই সমুদ্রপাড়ে দীর্ঘ সময় শুধু বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার জন্য শুয়ে কিংবা বসে থাকেন।

এই সৈকতেই সাগরপাড়ে বসবাসরত অনেকে খুঁজে পেয়েছেন নিজেদের জীবিকা নির্বাহের কেন্দ্র হিসেবে। কেউ ডাব বিক্রি করেন, কেউ কলা কেউ বা মিনারেল পানি, জুস, কোল্ড ড্রিংক্স। উপস্থিত পর্যটকেরাও এতে স্বস্তি পান। সাগরপাড়ে বসে ডাবের পানিতে তৃষ্ণা মেটান, কেউ বা গলা ভেজান বোতলজাত মিনারেল পানিতে, কেউ সাগরপাড়ের কলা খেয়ে তৃপ্তি মেটান।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অনেক সচেতন পর্যটকেরাই মিনারেল পানির বোতল খেয়ে ছুঁড়ে ফেলেন যত্রতত্র, সেগুলোর জায়গা হয় সাগরের পানিতে, কেউ বা ডাবের পানি খেয়ে খোসা ফেলে দেন পাশেই, জুসের প্যাকেট ফেলে দেন যত্রতত্র, কলার খোসা ফেলে দেন ছুঁড়ে।

কক্সবাজার সদর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে প্রবাল পাথরের সৈকত। ইনানি বিচ। এই ইনানি বিচেই কলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বা করে রায়হান নামের কিশোর। পঞ্চমশ্রেণি পর্যন্ত পড়েই থেমে গেছে রায়হানের পড়ালেখার পাঠ। এখন সাগরপাড়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে কলা নিয়ে এসে ইনানি সৈকতে বিক্রি করে রায়হান। কেননা তাঁর আয়েই পরিবার চলে।

সৈকতের অনেকের মতো রায়হানও একজন সাধারণ ফেরিওয়ালা। কিন্তু রায়হানের সচেতনতা থেকে অনেক শিক্ষিত মানুষও শিক্ষা নিতে পারে। যেসব পড়ালেখা করা মানুষ নিজের অজান্তেই অসচেতন, তাঁদের কাছে রায়হান হতে পারে অনুকরণীয়।

রায়হান খুব বেশি কিছু করে না। নিজে কলা বিক্রি করে সৈকতে। কলা বিক্রি করার পর দাঁড়িয়ে থাকে। দর্শনার্থীদের কলা খাওয়া হয়ে গেলে সে খোসা নিয়ে নিজের সাথে রাখা একটি পলিথিন ব্যাগে সেটা ভরে নেয়। এরপর অন্যখানে ছুটে যায় কলা বিক্রি করতে। কেননা রায়হান জানে এই খোসা সমুদ্র সৈকতকে নোংরা করে, অপরিচ্ছন্ন করে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *