Saturday, January 25

শেষ হল ভক্তদের মিলন মেলা রোববারণী



বিকাশ সূত্রধর:: গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূর ৫৩১তম আবির্ভাব মহোৎসব উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে  রোববার শেষ হল ভক্তদের মিলন মেলা রোববারণী। ভারতীয় উপমহাদেশে বৈষ্ণবধর্ম দর্শন সভ্যতা সংস্কৃতির ইতিহাসে শ্রীহট্ট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদি বাসস্থান। পুণ্যতীর্থ শ্রীধাম ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুরবাড়ি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি সুপরিচিত তীর্থস্থান।

সরেজমিনে জানাযায়, উপমহাদশের সুপরিচিত শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভূ পাঁচ শতাধিক বছর পূর্বে গুপ্ত বৃন্দাবন শ্রীধাম ঢাকাদক্ষিণে শ্রীশ্রীমন মহাপ্রভু ১৪৮৬সালে আর্বিভাব হন। তাঁর পিতার নাম জগন্নাথ মিশ্র ও মাতার নাম শচীদেবী এবং মাতামহীর নাম শোভাদেবী। একদিন দৈব স্বপ্নাদেশে গর্ভাবস্থায় জগন্নাথ মিশ্র নবদ্বীপে গমন করেন শচীদেবীকে নিয়ে। নবদ্বীপে যাওয়ার পূর্বে শোভাদেবী পুত্রবধূ শচীদেবীকে অনুরোধ করেন বলেন তাঁর কোন পুত্রসন্তান জন্ম নিলে একটি বার ঢাকাদক্ষিণে নিয়ে আসতে। শচীদেবীর ঘরে জন্ম নিলেন শ্রীশ্রীমন শ্রীশ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু। তাঁর ডাক নাম ছিল নিমাই। শচীদেবী শাশুড়ীর অনুুরোধক্রমে পুত্রসন্তান নিমাইকে নিয়ে ১৫১০সালে ২৪বছর বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণের পর ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুর বাড়ি নিয়ে আসেন।

তখন তিনি পিতামহী শোভাদেবীর সুপবিত্র গৃহে স্বয়ং শুভাগম করেন চৈত্র মাসের কোন এক রবিবারে। শ্রীশ্রীমন শ্রীশ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু বৃদ্ধা পিতামহীকে নিজের ও শ্রীকৃষ্ণের দু’খানি শ্রীবিগ্রহ প্রদান করে নিজ বাড়িতে পূজা অর্চনা করার উপদেশ দিলে তখন থেকে ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুর বাড়ির নাম প্রসিদ্ধ লাভ করতে শুরু করে। শ্রীমূর্তিদ্বয় এই বাড়ির আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তি হিসেবে গৌরভক্তগণের নিকট মহাতীর্থ ভুমিরুপে লাভ করে।

এক জনশ্রুতিতে জানাযায় ১৫১০সালে নবদ্বীপ থেকে ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুর বাড়িতে মহাপ্রভু আগন করলে তার এ আগমনকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্মরণ করে রাখার জন্য প্রতি বছর চৈত্র মাসের প্রতি রোববার মহাপ্রভুর বাড়ির সামনে ভক্তদের এক মিলন মেলা বা রোববারণী বসে। বিশেষ করে চৈত্র মাসের প্রতি রোবাবার এমেলা খুব জমে উঠে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা ও বিভিন্ন জিনিস পত্র ক্রয়বিক্রয় করতে এখনে ভীড় জমান। বৃটিশ আমলেও ভারত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মহাপ্রভুর বাড়ি দর্শন করতে সমবেত হতেন। তখন যাতায়াত ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম ছিল জলপথ। ভারত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জাহাজ যুগে বাদেপাশা ইউনিয়নের নোয়াইরঘাট ঝেটিতে নেমে তারপর ঢাকাদক্ষিণ ঠাকুর বাড়িতে আসতেন। তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি ছিল খুব বেশি। দেশ স্বাধীনের পর অনেক হিন্দু লোকেরা ভারতে চলে যাওয়ায় আগের তুলনায় এখন হিন্দুদের উপস্থিত এখন অনেক কম। রবিরারণীর প্রধান আর্কষণ নাগর দোলা, পুতুল নাচ। এছাড়া মেলায় উঠেছে বিভিন্ন ধরণের খই, বাহারী হাত পাখা, তেতুল, বেল, আমের আচার, চলতা আচার, মিষ্ঠি, বাতাসা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা, ফরফরি, ঘুড়ি।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *