Thursday, January 23

সমৃদ্ধ আগামীর’ বিশাল বাজেট



সরকারের শেষ বছরে ২৫ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার দশম সংসদের ২১তম অধিবেশনে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০  কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হতে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এনবিআর’র বাইরে অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা (জিডিপি’র দশমিক ৪ শতাংশ) এছাড়া কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা (জিডিপি’র ১ দশমিক ৩ শতাংশ)।

এনবিআরকে দেওয়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় ধরা হয়েছে ভ্যাট থেকে।

এ খাত থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ ৮৩ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

বাজেটে আয়ের দ্বিতীয় খাত হিসেবে আয়কর আদায়ের জন্য ৯৭ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এ খাতে আদায় ৪৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা।

বাজেটে ব্যয়ের খাতগুলো উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের শ্রেণি-বিন্যাস অনুযায়ী কাজগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাত। সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যার মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

দারিদ্র বিমোচন ও অসমতা হ্রাস এবং জনগণের জীবনমানে মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন আনাকে মূল লক্ষ ধরে মধ্যমেয়াদী নীতি-কৌশল অবলম্বন করে এ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

করমুক্ত আয়সীমা ৩ লক্ষ টাকা করার দাবি থাকলেও নতুন অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আগের মতই থাকছে। যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না।

নিজের ১২তম এবং টানা ১০ম বারের মতো বাজেট পেশ করা অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি নিশ্চিত এ বাজেট বাস্তবায়নে দেশের আপামর জনগণ তাদের উদ্যোগ, সৃজনশীলতা, কর্মদক্ষতা, অংশীদারিত্ব এবং সর্বতোভাবে স্বতঃস্ফূর্তটা নিয়ে অংশগ্রহণ করবে

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *