Wednesday, January 22

সাংবাদিক শব্দটার পাশে কি দরিদ্রতার বাস(১) ?



আব্দুল হাদী::
সাংবাদিক শব্দটা শুনলে আতকে উটে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ , তবে এ শব্দটির পাশে প্রতিনিয়ত জড়িয়ে থাকে দরিদ্রতা। নেশা না পেশা এ প্রশ্নের ভেতর যখন এ শব্দটি গুরপাক খেতে থাকে তখন এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটাই খুব কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। এ পেশায় দরিদ্রতাটা একেবারে গোপনে বাস করে, তা টের পাওয়া যায়না। কিন্তু যখনই নিঃশ্বেস করে দেয় তখনই প্রকাশ পায়। যারা শব্দটির সাথে দরিদ্রতাকে মানিয়ে নিয়ে জীবনটাকে নিঃশ্বেস করে দেয় তাদের গল্প কেউ জানেনা কিন্তু যারা পৃথিবীতে আটকা পড়ে তাদের গল্প মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়। তাহলে কি আমাদের দেশে সাংবাদিক শব্দের সাথে দরিদ্রতার বাস প্রতিনিয়ত থাকবে ?
প্রশ্নটা শুধু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কেননা প্রশ্ন করার কোন জায়গা নেই। অভিজ্ঞতা সামান্য রয়েছে তা শুধু মফস্বল সাংবাদিকতার উপর , জেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ের কারো সম্পর্কে তেমন একটা জানা নেই। তবে এটা বলতে পারি সাংবাদিকতা করে কেউ কোটিপতি হওয়ার খবর কোথাও শুনিনি। এ পেশায় প্রতিনিয়িত অনেকেরই আগমন ঘটে , কেউ খুব তাড়াতাড়ি অব্যাহতি দেয় আবার কেউ লেগে থাকে। এ লেগে থাকার মধ্যে জীবনের অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে যায় শেষ পর্যন্ত জীবনের আর হিসেব মেলানো যায়না। সোজা কথায় জীবনের উদ্যমি যৌবন টুকু একাজে লাগিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ সময়ের ভেতর অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন এসে হাতছানি দেয় কিন্তু এগুলো স্বপ্নের ভেতরই থেকে যায়।
নেশা হোক আর পেশাই থাকুক এখানে আসার আগে অনেক সততার বাণী শুনতে হয় । টাকা পয়সা রোজগারের কোন পথ নেই। অনেক সৎ এবং নিষ্টার সাথে কাজ করতে হয়। উপদেশ মানতে গিয়ে অনেকে অনেক কারনে এ সাংবাদিকতায় নাম লেখায়। বিশেষ করে সম্মান এবং পরিচিতিটা প্রাধান্য পায় বেশি , কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপদেশ মানতে গিয়ে সম্মান আর পরিচিতিতে পেট ভরেনা। এ দুটো ছাড়া আরো কারন থাকে , আমি এ নাম শরিরে লাগাতে পারলে আমার দাপট বেড়ে যাবে , যদি কারো কোথাও কোন শত্রু থাকে তাহেল তাহে অতিসহজে ঘায়েল করা যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণ থেকে যায় । কিন্তু এখানে মুল কোন লক্ষ্য উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ থাকেনা। এখান থেকে অবসর নেওয়ারও সময় নেই। “অনেক বড় এক জগত” যদিও সাংবাদিক খেতাব শরিরে লাগানো হয় কিন্তু এর বিশালতা বুঝে উটা খুবই কষ্টকর।
কুমিল্লা জেলার এক টিভি সাংবাদিক অনেক আগে একটা অনলাইন পোর্টালে নিজের সাংবাদিকতার কথা লিখতে গিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন ,তার মধ্যে কিছু কথা আমার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছিলো ”লোকে ভাবে আমার কাছে অনেক টাকা আছে ,যেদিকে যাই সবাই আমাকে টাকা দেয় ,কিন্তু নিজের একটা ক্যামেরা নাই ,বাজার সদাই করার টাকা নেই ,তাই শেষ পর্যন্ত বউয়ের এক ভরি গয়না বিক্রি করে ক্যামেরা কিনতে হয়েছে এবং বাজার সদাই করতে হয়েছে” এ অবস্থাটা শুধু উনার জীবনে ঘটেছে না অন্য কারো জীবনে ঘটেছে জানিনা। বেশি কিছু বলা যাবেনা তবুও বলতে হয় যারাই অর্থ ভিত্তের যোগান দিয়ে পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেল আবিস্কার করেন তাদের জন্য অনেকেই দিনমুজুরের মতো খাটুনি দেয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কোন মুল্যায়ন করা হয়না। সাংবাদিকতায় যেমন প্রতিনিয়ত আগমন হচ্ছে তেমনি পত্রিকা কিংবা টিভির সংখ্যাও বেড়েই চলছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অনেকের আগমন ঘটে , সাংবাদিক তৈরি করা হয় , তাদের আয় রোজগারের জন্য মানুষের ধারে ধারে গিয়ে ধরনা ধরার শিক্ষাও দেওয়া হয়ে থাকে। বাহির থেকে যতটা চমকপ্রদ মনে হয় ভেতরটা তেমন থাকেনা , সেখানে অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকে যা প্রকাশ পায়না। আমাদের দেশে এ পেশাটা কি কখনো গোচালো একটা পেশায় রুপান্তরিত হবে ,নাকি এভাবে এলোমেলো হয়েই চলতে থাকবে ? আর সাংবাদিকতা নামটির সাথে দারিদ্রতা লেগে থাকবে ? জানিনা কেউ কি এসব থেকে পরিত্রান দেওয়ার মতো আছেন কিনা ?
আমার দেখা এক ব্যাক্তি ,প্রথমত রাজনীতির সাথে সংম্পৃক্ত ছিলেন পরবর্তিতে ,সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ইফতেকার আহমদ খোকন , দেহের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় দুটো কিডনি বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়ায় অনেক টাকা খর্চ করেছেন , শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি আটকা পড়েছিলেন টাকার কাছে , সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেক দরিদ্রতার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হয়নি , শেষ পর্যন্ত চিরনিন্দ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি। কিছুদিন আগে নজর কেড়েছে সিলেটের এক ফটো সাংবাদিক ইকবাল মনসুর সাহেবের অসুস্থতা , সে অসুস্থতার সাথে দারিদ্রতা কেমন সেটাও অনুমান করা গেছে। তবে কেন , উনার ফেইসবুক কিংবা অন্যের ফেইসবুকে অনেক ছবি দেখেছি । তিনি যেখানে ছবিগুলো তুলেছেন, সেসব জায়গায় সবার যাওয়া সম্ভব হবেনা। তবে এটুকু বলতে পারি পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া সেই সাংবাদিক সাহেবকে কাজে লাগিয়ে অনেক স্বার্থ উদ্ধার করেছেন অনেকে , যা তিনি নিজেও টের পাননি। যিনি উপকৃত হয়েছেন তিনিও কখনো স্বীকার করেননি বরং উল্টো তাকে নিয়ে পরিহাস করেছেন। ইকবাল মনসুরের জীবন প্রমাণ করে সাংবাদিকতায় টাকার কোন ছড়াছড়ি নেই , থাকতে পারে সততা , আর স্বার্থবাদিরা তাদের অনেক স্বার্থ হাসিল করে নেয় সুযোগ বুঝে ।
লেখাটা শেষ প্রান্তে , যাকে নিয়ে এসব লেখার চিন্তা মাথায় গুরপাক খাচ্ছিল তিনি সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার সাংবাদিক এফ এম আলী ফয়েজ। প্রথমেই তাকে নিয়ে শুরু করার কথা থাকলেও পারিনি, তাই শেষের দিকে নিয়ে আসা। উনার সাথে আমার পরিচয়টা প্রায় দশ বছর আগের। তখন তিনি দাপুটে সাংবাদিক , চলাফেরাটা একেবারে অন্যরকম । স্থানীয় সব শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক । এছাড়াও প্রশাসন থেকে শুরু করে এমপি মন্ত্রী অনেকের সাথেই উনার চলাফেরা। বছর দুয়েক আগ থেকে তিনি খুব বেশি অসুস্থ চিকিৎসা হচ্ছে কিন্তু মানসম্পন্ন না হওয়াতে সেরে উটা সম্ভব হচ্ছেনা। তবুও সে পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। কিন্তু এ যাবৎকালে তিনি একেবারে অসহায় ,সেটা তার লেখনির মাধ্যেমে জানান দিয়েছেন অনেকের কাছে। তার লেখাটা পড়ে বুঝা যায় দরিদ্রতার চাবুক তাকে কেমন করে আঘাত করছে প্রতিনিয়ত , শুধু তাহাই নয় তিনি তার লেখায় এটাও বুঝিয়েছেন যখন সময়টা ভালো ছিলো তখন তার অনেক বন্ধু ছিলেন , যার সংখ্যা তিনি নিজেও জানেননা। কিন্তু এখন তার লেখার লাইনটা হলো ” আমার কেউ নাই ভব সংসারে” তাহলে জীবনের দীর্ঘ সময়ের সাংবাদিকতা কি তাকে দরিদ্রতাই উপহার দিলো। প্রশ্নতো থেকেই যায় এটা কেমন উপহার ?
এ নামের পেশায় যারাই সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন তারা আর বের হতে পারেননা। কারন তাদের মস্তিষ্কটা চারিদিকে কাজ করে । যদিও ইচ্ছে হয় এখান থেকে সরে যাওয়ার কিন্তু মস্তিষ্ক আবার টেনে নিয়ে আসে।মহৎ পেশা ,যার সঙ্গে অনেক সন্দেহ লেগে থাকে। একজন সাংবাদিক যতটা না সন্দেহ করেন তার চাইতে বেশি সন্দেহ করেন তাকে পথচারি থেক শুরু করে সব শ্রেণী পেশার সানুষ। তাই অনেক অবজ্ঞা সুচক শব্দ শুনে পথ চলতে হয়। তবুও আশাবাদি থাকবো সাংবাদিকতা শব্দের পাশ থেকে যেন দরিদ্রতা শব্দটা মুছে যায়। স্বাচ্ছোন্দময় একটি জীবনের অভিপ্রায় যেন ঘটে। নেশা হোক আর পেশা হোক সময়টা যেন কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। যারা প্রতিষ্টিত রয়েছেন তারা একটু ভাবলে হয়তো সমাধান সম্ভব হবে ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *