Thursday, January 23

সামারের অপেক্ষা



গানে, সুরে,ছন্দে,আনন্দে হ্দয়ে লাগলো দোদুল দোলা

গগনে রামধনুর রঙে রাঙিল মেঘের ভেলা

ধরণীতে বনানী নব পল্লবে,কুসুমে, ভ্রমরের গুঞ্জনে আত্মভোলা।

নদীতে-সাগরে সমীরণ ঢেউয়ে মাতালো জোয়ার-ভাটার খেলা।

আমি মনে মনে কবিতার চরণ আওড়াচ্ছি, তার মানে আমি যে প্রফুল্ল চিত্তে আছি, এটা বুঝতে কারোরই বাকি নেই। তবে শুধু আমি কেন ইউরোপের প্রকৃতিও এখন আসন্ন সামারের প্রতীক্ষায় প্রফুল্ল চিত্তে অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

সামার এখনও আসেনি, তবে আসি আসি করছে। কনকনে ঠাণ্ডায় ইউরোপের জুবুথুবু হয়ে থাকা মানুষগুলোর মনে আর পত্র পল্লবহীন কঙ্কালসার প্রকৃতিতে আসন্ন গ্রীষ্মের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। তীব্র ঠাণ্ডা বিদায় নিয়েছে বেশ কয়েকদিন হলো। ঠাণ্ডা এখনও প্লাস ছয় থেকে বারো তে ওঠা নামা করলেও নীল আকাশে সাদা সাদা মেঘের ভেলা, ভোরের চকচকে সোনালী রোদ্দুর আর পাখির কিচির মিচির ধ্বনি ইউরোপে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে।

ইউরোপের সামার প্রকৃতিকে গাঢ় সবুজে, রঙ বেরঙের নানান রকম ফুলে ফুলে আর পত্র-পল্লবে  নব যৌবনে সাজিয়ে দেয়। দিগন্ত,পাহাড়,বনানী,সাগর,নদী সব যেন প্রকৃতির অসামান্য সৌন্দর্য উপহারের আনন্দে মাতোয়ারা। সামারের প্রকৃতির এই খুশির ছোঁয়া আর যৌবনের রং প্রতিটি মানব মনকেও রাঙিয়ে রঙিন করে। ইউরোপের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে এখনই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পাকা করে ফেলেছে, প্রকৃতির রূপসুধা পান করতে দর্শনীয় বেড়ানোর স্থানগুলোতে যাবার জন্য।প্রকৃতির রূপের স্বাদ গ্রহণ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করতে ইউরোপের মানুষেরা একেবারেই নারাজ। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবসরে প্রতিটি মানুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই ছুটে চলে যায় প্রকৃতির মাঝে।

এরা বিশ্বাস করে এবং মানে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারে।বৃদ্ধরা প্রকৃতির রূপ যৌবন উপভোগ করে নিজেরাও যেন হারানো যৌবনে ফিরে যায় কিছুদিনের জন্য। প্রবল শীতে প্রকৃতি যেমন জীর্ণ, স্থবির হয়ে থাকে তেমনি এসব দেশের মানুষেরও অবসরের শীতের বেশীরভাগ সময় ঘরেই কাটে। তাই সামারে রাতের বেলা ঘুমানোর সময়টুকু ছাড়া ঘরে বদ্ধ

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *