Tuesday, January 28

সিটি নির্বাচন: ফ্যাক্টর হতে পারে অর্থমন্ত্রীর সুদৃষ্টি



সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি দু দলই পড়েছে বেকায়দায়। সম্ভাব্য দুই দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে গৃহদাহ।

পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে প্রায় ১৮ বছর সিলেট নগরীর দায়িত্বে ছিলেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিগত নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন কেন্দ্রিয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। হঠাৎ করে কামরানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার কারণ হিসেবে তখন সামনে আসে উন্নয়নে তার অনীহার বিষয়টি।

অনেকের মতে একঘেয়ে হয়ে ওঠেছিলেন কামরান। নগরবাসী চাইছিলেন পরিবর্তন। আর সেকারণেই দলীয় মনোনয়ন পেতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ঘোর বিরোধীতার মুখে পড়লেও নির্বাচনে বিজয়ী হতে বেগ পেতে হয়নি আরিফকে। তবে এবার এ দুই বাঘা নেতাই পড়েছেন দলীয় বিরোধের গ্যাড়াকলে।

বিএনপির প্রার্থী হতে প্রস্তুত আরো অন্তত তিনজন। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও বর্তমান প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান লোদী আছেন আলোচনায়। এর মধ্যে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে আরিফের বিরুদ্ধে নিজ দলের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগ গেছে কেন্দ্রের কাছেও। স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতারই সমর্থন পাচ্ছেন না আরিফ।

অন্যদিকে প্রকাশ্যে বিরোধীতা না থাকলেও দলের নেতাদের সাথে দূরত্ব বেড়েছে কামরানের। তার বিপরীতে প্রার্থী হতে চান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এবং মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বর্তমান কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদও প্রার্থী হতে চান আওয়ামী লীগের।

সিলেট আওয়ামী লীগের আরেক ‘বড় নেতা’, কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও নাকি চাইছেন নতুন মুখ। কামরানের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হতে পারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোর বিষয়টি।

যদিও কেন্দ্রের একাধিক সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত কামরান-আরিফই পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন।

ফ্যাক্টর হতে পারে অর্থমন্ত্রীর আর্শীবাদ : অনেকের মতে বিগত নির্বাচনে কামরানের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল স্থানীয় এমপি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে মানসিক দূরত্ব। প্রকাশ্যে আন্তরিকতার অভাব না হলেও তাদের সম্পর্কের বরফ আরো জমাট হয়েছে। স্থানীয় অনুষ্ঠান-কর্মসূচিতে একসাথে খুব একটা দেখা যায় না মুহিত-কামরানকে। অন্যদিকে মুহিত-আরিফ সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই টক অব দ্য টাউন। অর্থমন্ত্রীর সাথে থেকে আরিফ বিএনপির বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপনে কাজ করছেন বলে অভিযোগ কররেছেন খোদ বিএনপি নেতারাই।

অনেকের মতে, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে রাজনীতির আলোচনায় আসা আরিফ এখন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও ‘নিজের মানুষ।’ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে সংবর্ধনাও দিয়েছেন আরিফ।

বিএনপি বিষয়টিকে দেখছে দলীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলছেন, আরিফ আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে দেখছে দলীয় দুর্বলতা হিসেবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনেন উন্নয়নে দু হাতে বরাদ্দ দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু তার সুনাম পুরোটাই যাচ্ছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নামে। দুয়েকটি দলীয় সভায় এ নিয়ে অভিমানও প্রকাশ করেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার অভিযোগ, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নগর ভবনের দায়িত্বে থাকলেও কোনঠাসা করে রাখা হয় কামরানকে। এমনকি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও দেয়া হয়নি পর্যান্ত বরাদ্দ। অন্যদিকে এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও শত-শত কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছেন আরিফ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *