Saturday, January 18

সেই মুন্নি আজ আপন ঠিকানায়!



সিলেট প্রতিনিধি::অবেশেষ ২০ বছর বয়সে এসে নিজের একটা ঠিকানা পেলেন বিপাশা আক্তার মুন্নি। শুক্রবার ঢাকঢোল পিটিয়ে মুন্নির শুভ পরিণয় সম্পন্ন হলো। বিকেলে বরের সাথে নতদুন ঠিকানায় রওয়ানা দিলেন মুন্নি। তার জন্য তো এটি প্রথমবারের মতো ঠিকানা খোঁজে পাওয়া।

১০ বছর আগে যখন পুলিশ উদ্ধার করে যখন নগরীর রায়নগরের সরকারি শিশু পরিবারে নিয়ে এসেছিলো মুন্নিকে তখন বাবার নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারতেন না তিনি। জানতেন না নিজের ঠিকানা। সসেই মুন্নি আরও ১০ বছর পর খুঁজে পেলেন নিজের ঠিকানা।

শুক্রবার সবার শুভাশিষ নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ‘ঠিকানাহীন’ মুন্নি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত তার বিয়েতে ছিল জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি।

শুক্রবার সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালনাধীন রায়নগর শিশু পরিবারে আয়োজন করা বিপাশার বিয়ের। সকাল ১১টার দিকে বর আব্দুল লতিফ (২৭) ২০ জন যাত্রী নিয়ে শিশু পরিবারে আসেন।

বিয়েতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিমসহ নগরীর বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়েতে সবমিলিয়ে ৩শ’ অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয় বলে সমাজসেবা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিরা নগদ অর্থসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস এবং শিশু পরিবারের উপ-তত্বাবধায়ক জয়তি দত্ত বরযাত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিপাশা আক্তারকে ১০ বছর বয়সে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের একটি গ্রাম থেকে অজ্ঞাতনামা হিসাবে উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারের সময় বিপাশা কেবল তার বাবার নাম জামাল বলতে পারতো। উদ্ধারের পর তার ঠাঁই হয়েছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শিশু পরিবারে (সেফ হোমে)।

এরপর ১০ বছর কেটে গেলেও তার বাবা-মা কিংবা স্বজনদের কোন খোঁজ মেলেনি। সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর বিপাশা শিশু পরিবারের সদস্য হন। প্রথমে তাকে রাখা হয় বাগবাড়ি সেফহোমে। ২০১৪ সাল থেকে তার ঠিকানা হয় রায়নগরের শিশু পরিবারে। শিশু পরিবারের রীতি অনুযায়ী শুক্রবার তার বিয়ের তারিখ ধার্য্য করা হয়।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *