Saturday, January 25

সেতু-আছে-সড়ক-নেই



সেতু নির্মাণ করা হয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্তে। কিন্তু পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া গ্রামের ইছামতি খালে নির্মিত সেতুটি সাধারণ মানুষের দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতুটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩২ লাখ। অনেকে মনে করছেন গোটা টাকাই পানিতে গেছে।

সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটা কারো কাজেই আসছে না। এ কারণে স্থানীয়দের মন্তব্য, ‘এটা ব্রিজ করা না, গ্রামের মানুষের সঙ্গে তামাশা করা’।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পিআইও কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ৩২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে পাঁচুরিয়া গ্রামের ইছামতি নদীর প্রধান খালের ওপর একটি সেতুটি নির্মিত হয়। ২০১৬ সালের মে মাসে কোনোরকম সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতুটি নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শমশের আলী মন্ডল বলেন, যে খালের মধ্যে সেতুটি নির্মিত হয়েছে তার অপর প্রান্তে রয়েছে পাঁচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঁচুরিয়া পুর্বপাড়া গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম। এতদিন শিক্ষার্থীসহ ঐ সব গ্রামের লোকজনকে খাল ঘুরে যাতায়াত করতো। এতে তাদের অনেক বেশি রাস্তা ঘুরতে হতো এবং সময়ও অনেক বেশি লাগত। সে কারণে এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলা ত্রাণ বিভাগ। কিন্তু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর শেষ পর্যন্ত এমন জায়গায় সেতু নির্মিত হলো, যা এলাকাবাসীর কোনো উপকারেই আসছে না।

আারিফুর রহমান নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতু নির্মাণের নকশা ও আর্থিক বরাদ্দ করা হয়। এতে সেতু নির্মিত হওয়ার পর দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ সংযোগ সড়কের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখে সেতু নির্মাণ করা হলে সেটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠতে পারত।

বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের  বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি তৈরির পর যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *