Sunday, January 26

“স্বপ্নযাত্রার শেষটা হোক শিরোপা দিয়ে এটাই প্রত্যাশা”



লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও নেইমার—২০১৪ বিশ্বকাপের আবহে সবচেয়ে বড় তারকা। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগেভাগেও এই তিনের ওপরে রাখার মতো তারকা কোথায়! চার বছর আগে এই ত্রিরত্নের বিশ্বকাপ ভালো

কাটেনি তেমন। রোনালদোর পর্তুগালের বিদায় প্রথম রাউন্ডে, নেইমার ইনজুরিতে পড়েন কোয়ার্টার ফাইনালে, তাঁকে ছাড়া ব্রাজিল বিধ্বস্ত হয় সেমিফাইনালে। আর আর্জেন্টিনাকে নিয়ে মেসি ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও শিরোপার

হাসিতে শেষ করতে পারেননি বিশ্বকাপ। রাশিয়ার আসরে ওই অপ্রাপ্তি ঘোচানোর অভিযান এই ত্রিরত্নের। তাঁদের বিশ্বকাপ ভাবনায়ও সেই প্রত্যয়ের ছাপ…

 

প্রশ্ন : আপনার চোটের কী অবস্থা? সব ঠিক তো?

নেইমার : শারীরিকভাবে আমি ভালোই আছি। আমার পায়ের অবস্থাও ভালো। বেশ কিছু নতুন জিনিসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। সামান্য কিছু অসুবিধা আছে, তবে সেসবের কোনো কিছুই আমাকে সমস্যায় ফেলছে না।

প্রশ্ন : তাহলে কি আপনি শতভাগ ফিট নন?

নেইমার : এখনো শতভাগ ফিট হয়ে উঠিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যাব। এটা খুবই স্বাভাবিক যে সম্পূর্ণ জোর দিয়ে নড়াচড়া করার বেলায় আমার ভেতরে একটা ভয় কাজ করছে। তবে একটা কথা সহজভাবে বলে দিই। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম ম্যাচের এখনো বেশ কিছুদিন বাকি আছে আর তার আগেই আমি শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠব।

প্রশ্ন : যদি সময়ের ভেতর সেরে না ওঠেন, তাহলে হয়তো দর্শকের আসনে বসেই দেখতে হবে বিশ্বকাপ। সেই শঙ্কা কতখানি?

নেইমার : আমি খেলার জন্য তৈরি। কোনো কিছুই আমাকে আটকে রাখতে পারবে না। আমি এখন যে ভয়টা পাচ্ছি তার কারণ হচ্ছে এখন তো আমি সেরে উঠছি।

প্রশ্ন : ২০১৪ সালে, নিজেদের দেশে হওয়া বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে পিঠের চোটে ছিটকে গিয়েছিলেন আপনি। এবারও চোটের চোখরাঙানি। নিজেকে কি দুর্ভাগা মনে করেন?

নেইমার : আশা করব আমাদের এবারের স্বপ্নযাত্রায় এমন কোনো বিঘ্নের মুখে পড়ব না। স্বপ্নযাত্রার শেষটা হোক শিরোপা দিয়ে, এটাই প্রত্যাশা।

প্রশ্ন : কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটায় কামিলো সুনিগা ফাউল করলেন আপনাকে। সেই স্মৃতির কতটা মনে আছে?

নেইমার : আমার প্রচণ্ড ব্যথা করছিল। এটুকুই শুধু মনে আছে যে আমি মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছি। মার্সেলোর তীব্র চিত্কার শুনতে পাচ্ছি, ‘না না না…ডাক্তারকে ডাকো!’ আমি পা নাড়াতে পারছিলাম না। ডাক্তাররা এসে আমাকে বাইরে বের করে নিয়ে যান। আমার খুব কান্না পেয়েছিল। প্রচণ্ড ব্যথা করছিল আর আমি কিছু টের পাচ্ছিলাম না। আমি পায়ে কোনো সাড়া পাচ্ছিলাম না। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যখন পা টান টান করলাম, প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছিলাম। তখনই বুঝে যাই, আমার আর বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

নেইমার : আমি তো ব্রাজিলকে ফেভারিটদের মধ্যে সবার ওপরেই দেখি। আমাদের দলে অসাধারণ সব ফুটবলাররা আছে আর যেমনটা তিতে বলে থাকেন, আমরা জেতার জন্যই বিশ্বকাপে যাব।

প্রশ্ন : ব্রাজিলের গ্রুপটা সম্পর্কে আপনার কী মত? কোন দলের বিপক্ষে খেলাটা সবচেয়ে কঠিন হবে মনে হয়?

নেইমার : আসলে বিশ্বকাপে এসে প্রতিপক্ষ বাছাই করার মতো বিলাসিতার কোনো জায়গা নেই। আমার তো মনে হয় সব ম্যাচই খুব কঠিন হবে, এ জন্যই তো এটা বিশ্বকাপ, তাই না! বিশ্বের সেরা সব দল এখানে খেলে আর প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন : জাতীয় দলের ভালো স্মৃতি, খারাপ স্মৃতি?

নেইমার : জাতীয় দলে এখন সময়টা ভালো যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এটাই ভালো স্মৃতি। খারাপ স্মৃতি তো প্রচুর! তবে সবচেয়ে খারাপ বোধ হয় সেই চোটটা। এরপরের একটা সপ্তাহ ঘরে বসে বসে কেঁদেছি। আশপাশে মা-বাবা, শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে মুষড়ে পড়তে দেখেছি। ওটাই ছিল আমার সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা।

প্রশ্ন : চোটের কারণে ব্রাজিল দলের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার ম্যাচটায় আপনার থাকা হয়নি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে জার্মানির সঙ্গে ওই ম্যাচ নিয়ে?

নেইমার : ৩০টা ম্যাচ খেললে একবার এ রকম হতে পারে। আমিও বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে মাঠে! পরে মাঠে থাকা সবার সঙ্গেই কথা হয়েছে। সবাই একটাই কথা বলেছে, ‘কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’ আমাদের কিছুই হচ্ছিল না আর ওদের সবই হচ্ছিল। এটা ছিল আমাদের জন্য বিশাল এক দুর্ঘটনা।

প্রশ্ন : ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে খেলা নেইমার আর ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া নেইমারের মধ্যে কী তফাত?

নেইমার : এই তফাতটা বলে বোঝানো খুবই কঠিন, তবে আমি নিজের ভেতর ব্যাপারটা অনুভব করতে পারি। আমার মনে হয় এখন আমি অনেক বেশি অভিজ্ঞ, অনেক বেশি পরিণত, আমরা ব্রাজিলিয়ানরা যেটাকে বলি ‘কাসকুদো’; যার মানে দাঁড়ায় পোড় খাওয়া। আমি এমন একটা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলাম, যেটায় আমরা হেরেছি। তাই পরের বিশ্বকাপের জন্য খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি বাড়তি প্রস্তুতি নেব। আমি আরো প্রস্তুত থাকব। তাই এটা বলা যায়, ২০১৪-র নেইমারের চেয়ে ২০১৮-র নেইমার অনেক বেশি প্রস্তুত।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *